দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেশের নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেসে থাকা অবস্থায় কম দামে পণ্য কিনতে এখন টিসিবির ট্রাক সেলের লাইনে যোগ দিচ্ছেন।
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শ্রমজীবী মানুষদের পাশাপাশি এখানকার বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই লাইনে ছিলেন।
টিসিবি ঢাকায় ৫০টি স্থানে ট্রাক সেল আয়োজন করে, যেখানে ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া বিশেষভাবে পণ্য বিক্রি করা হয়। প্রতিটি ট্রাকে ৩৫০ জনের জন্য পণ্য থাকে, কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় নির্ধারিত সংখ্যা থেকে বেশি মানুষ এসে পড়েন, যার ফলে অনেকেই পণ্য কিনতে পারেন না।
টিসিবির ট্রাক সেল থেকে ভোজ্যতেল ১০০ টাকা লিটারে, মসুর ডাল ৬০ টাকা কেজি, চাল ৩০ টাকা কেজি এবং আলু ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে একজন ক্রেতা মোট ৫৯০ টাকায় এই চারটি পণ্য কিনতে পারেন, যেখানে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম প্রায় ১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনলে অন্তত ৪০০ টাকা সাশ্রয় হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আমরা একসঙ্গে মেসে থাকি, আর্থিক সংকটের কারণে সবাই চেষ্টা করছি খরচ বাঁচানোর উপায় খুঁজতে। আমাদের মেস মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সপ্তাহে একবার কেউ না কেউ টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে বাজার করবে। আজকে আমার পালা ছিল। ক্লাস মিস করে দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মেসের বাজার করলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনুন। সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন, নাহলে গ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা করা আরও কষ্টকর হবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান বলেন, “সরকার পতনের আগে যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ছিল, এখনও তেমনই। কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। বাজার থেকে পণ্য কিনে খাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি টিসিবির পণ্য কিনব।”
কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, “আগে মেসে ৩ হাজার টাকার মধ্যে তিনবেলার খাবার হয়ে যেতো, এখন ৪ হাজার টাকায়ও সেটা সম্ভব নয়। টিসিবির মাধ্যমে কিছুটা সাশ্রয়ী দামে তেল ও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এখন আমরা মেসের সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সপ্তাহে অন্তত দুবার টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনব। এতে কিছু টাকা সাশ্রয় হবে।”
