আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ৭০ জন সনাতনী আইনজীবীর নাম

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ৭০ জন সনাতনী আইনজীবীর নাম
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যাকাণ্ডের আগে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিহত সাইফুলের ভাই খান এ আলম একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এই মামলায় ১১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আইনজীবীদের গাড়ি এবং আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর আইনজীবী শুভাশীষ শর্মার নাম আসামির তালিকায় রয়েছে। এই মামলার এজাহারে আরও ৭০ জন আইনজীবীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

এজাহারে দেখা যায়, আসামিদের মধ্যে চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার তালুকদার, নিখিল কুমার নাথ, নিতাই প্রসাদ ঘোষ, চন্দন দাশ, সুমন আচার্য, রুবেল পাল, অভিজিৎ ঘোষ, তপন কুমার দাশ, অভিজিৎ আচার্য, অশোক দাশ, রাজেশ পাল, আশীর্বাদ কুমার বিশ্বাসসহ আরও বহু আইনজীবী রয়েছেন।

এছাড়া অ্যাডভোকেট ক্লার্ক সমিতির নেতাদেরও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মোট ৭০ জনের বেশি আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

বাদী খানের বক্তব্যে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, এর পরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় আসামিরা আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে ২০ থেকে ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী সাইফুলকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। তবে ১১৬ আসামির মধ্যে ৭০ জন আইনজীবী সনাতনী আইনজীবী সংগঠনের সদস্য। ঘটনার দিন হামলা বা গাড়ি ভাঙচুরে তারা জড়িত ছিলেন না।’

নিহত সাইফুলের ভাই খান এ আলম জানান, চিন্ময় দাসকে কারাগারে পাঠানোর সময় কিছু আইনজীবী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লোকজনকে জড়ো করতে উৎসাহিত করেছেন এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন। এরপরই সশস্ত্র লোকজন সাইফুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

এ হত্যাকাণ্ডের পর মামলা করার ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমরা দাফন-কাফন ও পারিবারিক শোক কাটিয়ে উঠতে সময় নিয়েছি, তাই বিলম্ব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম জানিয়েছেন, আসামিদের শনাক্ত করার জন্য নানা ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার ঘটনা ঘটে।

Visited 50 times, 1 visit(s) today