আইনজীবী সাইফুল হত্যা: পুলিশ, সরকারি কর্মচারী জড়িত সন্দেহে তদন্ত কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ

আইনজীবী সাইফুল হত্যা: পুলিশ, সরকারি কর্মচারী জড়িত সন্দেহে তদন্ত কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল হত্যার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

কমিটির প্রধান সাবেক মহানগর পিপি ও আইনজীবী আবদুস সাত্তার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে এই সুপারিশ করেন এবং তিনি তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলা জজ পদমর্যাদার কাউকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় বিচারিক ক্রটি, প্রিজনভ্যানে পুলিশের মাইক আসামির ব্যবহার, সরকারি কর্মচারী জড়িত থাকা, আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশসহ একাধিক বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন।

আবদুস সাত্তার বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইনজীবী হত্যার ঘটনায় ৭টি মামলা হয়েছে। পুলিশ তার তদন্ত করছে। আমরা শতভাগ নিরপেক্ষ তদন্ত করলেও তা নিয়ে কেউ না কেউ প্রশ্ন তুলবেন। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে চাইবেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলা জজ পদমর্যাদার কাউকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার সুপারিশ করে আমি অব্যাহতি নিয়েছি। ১৮ই ডিসেম্বর বার তা গ্রহণ করেছেন।

তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি থেকে সদস্যসচিব কাশেম কামালসহ অন্য ইতিমধ্যে অব্যাহতি চেয়েছেন। এজন্য তিনিও পদত্যাগ করছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তার বলেন, আইনজীবী হত্যার ঘটনার পর সমিতির পক্ষ থেকে ১০ই নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ১৫ই নভেম্বর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর মধ্যে সদস্যসচিবসহ চার জন পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

আরও পড়ুন: ‘রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে’ চিন্ময় কৃষ্ণের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, জানালেন আইনজীবী

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৭টি মামলা হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীরা জড়িত থাকতে পারে। প্রিজনভ্যানে থাকা অবস্থায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস পুলিশের মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ১ ঘণ্টার মধ্যে মামলার নকল নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমন অবস্থায় এ ঘটনা সাধারণ কেউ তদন্ত করলে হবে বলে মনে করছি না। একজন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক দিয়ে আলোচিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

এ কারণে গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই এ তদন্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানান।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন, তদন্ত দলের চার সদস্য পদত্যাগ করেছেন। অন্য কোনো কিছু আমার জানা নাই। কোনো কাগজপত্র পাইনি। আজ আইনজীবী সমিতি অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখব।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে ২৬শে নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল নিহত হন। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

এ ছাড়াও পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও ৬টি মামলা দায়ের করা হয়।

আইনজীবী সাইফুল হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Visited 227 times, 1 visit(s) today