যশোরের শার্শা সীমান্তে ইছামতি নদীর পাড় থেকে একদিনে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে প্রথমে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত তিনজনের মধ্যে সাকিবুর রহমান, সাবু হোসেন, ও জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ ছিল।
রাস্তার পাশে, ফুটপাতে, নদীর ধারে পড়ে থাকে, নদীতেও ভেসে আসে লাশ৷ অনেক ক্ষেত্রেই মৃতের মেলে না পরিচয়।হত্যাকাণ্ড মনে হলেও আসামিরা থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে৷
পুলিশ জানায়, সাকিবুর রহমানের মরদেহ শার্শা থানার অগ্রভুলোট সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। সাকিবুর বেনাপোল পোর্ট থানার দীঘিরপাড় গ্রামের জামিলুর রহমানের ছেলে। তার শরীরে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং মাথা ও নাকে আঘাত করা হয়েছে, যা পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে, সাবু হোসেনের মরদেহ বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী থেকে উদ্ধার হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১০-১২টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা দ্বারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবু হোসেনের বোন স্বপ্না বেগম জানান, তাকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ শার্শা সীমান্তের পাঁচভুলোট থেকে উদ্ধার হয়। তার শরীরেও প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, তাকে বেদম পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনার তদন্তে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির আব্বাস বলেন, “তাদের শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, এবং আমরা হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। তবে, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ সন্দেহ প্রকাশ না করায় তদন্তে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিনজনই সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আনাসহ বিভিন্ন কাজ করতেন। এই বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।

এছাড়া, সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে কামরুল হাসান (২৩) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। ১৭ ডিসেম্বর ধামরাই উপজেলার জয়পুরা থেকে এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। ১৩ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারের ফুটপাতে একটি নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯ শে ডিসেম্বর সেন্টমার্টিনে হাত পা বাধা এক মরদেহ পাওয়া গেছিল। এসব ঘটনায় নিহতদের পরিচয় মেলেনি, ফলে সেগুলো বেওয়ারিশ মরদেহ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়েছে, যেখানে অনেক মরদেহ উদ্ধার হলেও অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাদের হত্যার কারণও রহস্যাবৃত।
