জামায়াত তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকাকে ‘জাস্টিফাইয়ের’ চেষ্টা করছে: হাফিজ

জামায়াত তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকাকে ‘জাস্টিফাইয়ের’ চেষ্টা করছে: হাফিজ
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের বিতর্কিত অবস্থানের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামী তা উল্টো ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এখন তারা সুযোগটি ব্যবহার করে একাত্তরের ভুলগুলোর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু তা না করে তারা তখনকার ভূমিকাকে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করতে চাচ্ছে। এখন তারা নিজেদের দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধই জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অহংকার’ শীর্ষক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, এদেশে প্রকৃত দেশপ্রেমিক কেবল সামরিক বাহিনী আর তাদের দল। এমন বক্তব্যে আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমাদের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে, জনগণের বাহিনী হিসেবে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। এই বাহিনীর ভিত্তি স্থাপন করেছেন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ইপিআর-এর সৈনিক ও অফিসাররা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেশপ্রেমিক প্রমাণের জন্য কোনো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। তাদের একাত্তরের ভূমিকা, অতীত এবং বর্তমান সবই প্রমাণ করে যে তারা সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর এমন বক্তব্য আমাকে বিস্মিত করেছে।

উল্লেখ্য, রংপুরের পাগলাপীরে ২৫শে ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর এক সমাবেশে দলটির আমির শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, “দেশে দুটি পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক শক্তি রয়েছে— সেনাবাহিনী এবং জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ সরকার এই দুই শক্তিকেই দুর্বল করে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর ক্ষতি আগেই করেছে, পরে জামায়াতকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে।”

এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরুর পর বৃহস্পতিবার বিএনপির নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে মিত্র হিসেবেই দেখেছি। যখন ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ তাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের দল নিষিদ্ধ করেছে, আমরা সহমর্মিতা জানিয়েছি। এমনকি ধানের শীষ প্রতীকে তাদের নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়া তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন। যদিও অনেকেই এটি পছন্দ করেননি, দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এই ধরনের মন্তব্য কতটা সঠিক? আমরা তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।

হাফিজ উদ্দিন সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর যে ‘ইস্পাত কঠিন ঐক্য’ গড়ে উঠেছে, এমন মন্তব্য তা দুর্বল করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ছিল, যা একটি জাতির ভূগোল ও পতাকা বদলে দিয়েছিল। এক জাতি একবারই স্বাধীন হয়, বারবার নয়। যারা একাত্তরের বিরোধিতা করেছিলেন, তারা এখন নিজেদের দাগমুক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। এটি খুবই দুঃখজনক।

তিনি অতীত স্মরণ করে বলেন, ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তানের দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তখনও জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করেছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধেও তারা বিরোধিতা করেছে এবং অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে। এটি সবার জানা। তবুও স্বাধীনতার পরে রাজনৈতিক কারণে আমরা তাদের আমাদের জোটে জায়গা দিয়েছি। আমাদের আশা ছিল তারা অতীতের ভুল স্বীকার করে নতুন করে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করবে। এটি বেগম খালেদা জিয়াসহ আমাদের দলের প্রত্যাশা ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের সবসময় বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছি। কিন্তু এখন, যখন বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তখন তাদের এই ধরনের বক্তব্য, যেখানে তারা নিজেদের দেশপ্রেমিক এবং বিএনপিকে দেশদ্রোহী হিসেবে ইঙ্গিত করছে, তা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

Visited 40 times, 1 visit(s) today