ঢাকা, ১২ জানুয়ারি ২০২৫: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নিয়মানুসারে অনিয়মের দায়ে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা এক প্রেসে ছাপানো হচ্ছে পাঠ্যবই। এছাড়া, নিম্নমানের কাগজ ও কালি ব্যবহার এবং চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক ছাপাখানার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
অথচ পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে বিগত সরকারের অনিয়ম আর নিম্নমানের দোহাই দিয়ে, এই বছর উন্নত মানের পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর জন্য অতিরিক্ত ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সম্প্রতি রাজধানীর ডেমরা এলাকার একটি প্রেসে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, পাঠ্যপুস্তকের বদলে সেখানে বাণিজ্যিক কাজ চলছে। গত ৮ জানুয়ারির ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই এলাকার প্রায় সব ছাপাখানায় অভিযান চালানো হয়।
একটি ছাপাখানায় দেখা যায়, পাঠ্যবইয়ের মলাটের স্তূপ জমা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ভিডিও ফুটেজ দেখানোর পর তারা বিষয়টি স্বীকার করে। প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের মালিক মো. মহসিন দাবি করেন, তার অগোচরে বাঁধাই মেশিনের ইনচার্জ রাতে এই কাজ করেছেন, যাকে ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমা প্রিন্টিং প্রেস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের কাগজ ও কালি ব্যবহার করে পাঠ্যবই ছাপানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে এই প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে শর্ত অনুযায়ী কাজ করার অঙ্গীকারনামা নেয় এনসিটিবি। কিন্তু এবারও তারা নিয়ম ভঙ্গ করেছে।
সোমা প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ ভালোটা দেয়ার চেষ্টা করি। তবে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না।”
এছাড়া মেসার্স টাঙ্গাইল প্রিন্টার্স নামে এক প্রেস, যা ২০২৩ সাল থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ, সেখানে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলতে দেখা গেছে। এই প্রতিষ্ঠানকে আগে নোট ও গাইড বই ছাপানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম পাঠ্যবই ছাপানোর স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
