নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে গুম-খুনের একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। এইচআরডব্লিউর সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা সংস্থাটিকে বলেছেন- শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্জন বন্দিত্বের বিষয়ে জানতেন। কিছু ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরাসরি গুম ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।’
কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহে একটি বড় ধরনের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ধরনা করা হচ্ছে কথিত গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার আজমির ঘটনার আলোকে এই প্রতিবেদন করেছে এইচআরডাব্লিউ। কিন্তু আজমি নিজেই অস্বীকার করেছেন এই বলে যে,
“এমন কোন ঘটনা ঘটে নি।”
যে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এইচআরডব্লিউ উপরের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, সেই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন জুলকারনাইন সামি। জুলকারনাইন সামি আল জাজিরার পে রোলে সংযুক্ত একজন পার্টটাইম সাংবাদিক। তিনি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য প্রকাশের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন,
“এইচআরডব্লিউকে ঐ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারটি আমি প্রদান করেছি, কিন্তু তার অনুরোধে তার নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছি। সাক্ষাৎকারে তিনি আমাকে যা বলেছেন, তা হুবহু তুলে দিচ্ছি।”

এরপর জুলকারনাই্ন সামি উক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তার উক্তি তুলে ধরেন, যেখানে তথ্যদাতা কর্মকর্তা বলেছেন, “ব্রিগেডিয়ার আজমি (বন্দী) স্যার প্রায়ই শেখ হাসিনার কাছে তার মুক্তি দাবি করে বিশাল বিশাল চিঠি লিখতেন, প্রতিটা চিঠি আমি প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা)কে দিতাম। একদিন তাকে (শেখ হাসিনা) বললাম, স্যার, উনাকে (বি.জি. আজমি) ছেড়ে দিই, এটা ঠিক হচ্ছে না। উত্তরে শেখ হাসিনা আমাকে বলেন, ‘রাখতে না পারলে ফালায়ে দিও’ (হত্যার প্রতি ইঙ্গিত)। একই সাথে তিনি হাত দিয়ে বিশেষ ভঙ্গি করেন (কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য)।”
সামির স্ট্যাটাসে নিজেকে বন্দি দাবী করা যে ব্যাক্তিকে নিয়ে কথা হচ্ছল তার নাম আবদুল্লাহ আমান আজমি, যিনি যুদ্ধপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত গোলাম আজমের পুত্র। তিনি সামির সেই স্ট্যাটাসের কমেন্টে লেখেন
“অফিসার (সাক্ষাৎকার প্রদানকারী কর্মকর্তা) মিথ্যা কথা বলেছে। আমি প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কাউকে কোন চিঠি দিই নি বা মুক্তির জন্য কোন আবেদন করিনি।”
এই কথোপকথনে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, জুলকারনাইন সামি যে কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তার তথ্য ভুক্তভোগী নিজেই মিথ্যা হিসাবে অবহিত করছেন।
জুলকারনাইন সামি এর আগেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য গণমাধ্যমে, বিশেষ করে আল জাজিরা সহ ইজরায়েলি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যা বিভিন্ন সময়ে ভুল বা অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এমন ভুলে ভরা, অতিরঞ্জিত একটি সোর্স থেকে নাম পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়া কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ, সেটা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এটা বিশ্বনন্দিত মানবাধিকার সংস্থার তথ্যের সত্যতা ও প্রতিবেদনের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

