স্থানীয় সংবাদদাতা
মাদারীপুরের ডাসার ইউনিয়নে আজিজুল হাওলাদার (৬০) নামে এক চা-দোকানির হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার দাবি করছে, তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
শনিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ধামুসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার পাশ থেকে আজিজুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আজিজুল উপজেলার ধামুসা গ্রামের মৃত আবদুল রহিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে এবং কাঁঠালতলা বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন আজিজুল। পরিবারের লোকজন সারারাত খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। পরদিন সকালে স্কুলের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুল গণি হাওলাদার বলেন, আমার ভাই একজন আওয়ামী লীগ কর্মী ছিলেন। হাত-পা বেঁধে যারা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।
ডাসার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফউজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আজিজুলের হত্যার নিন্দা জানান।
তিনি লেখেন, “আওয়ামী লীগের তৃণমূলের এমন ত্যাগী কর্মীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বিচার চাই।”
পোস্টের সঙ্গে তিনি আজিজুলের একটি পুরোনো ভিডিও সাক্ষাৎকারও শেয়ার করেন। সেখানে আজিজুলকে বলতে শোনা যায়, “আমি বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি, কোনো স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসি। ছোটবেলায় শেখ সাবকে নিজ চোখে দেখেছি, তখন থেকেই ভালোবাসা।”
ডাসার থানার ওসি মুহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্ববিরোধের জেরে হতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক কারণে ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় জনগণ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা।
