নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি তিতুমীর কলেজের জন্য বিশেষ কিছু হচ্ছে না—শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজধানীর মহাখালী সড়ক অবরোধ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৭টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মহাখালী সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করছেন। এ দিন সন্ধ্যা ৬টায় কলেজটির শিক্ষার্থীরা মহাখালীর আমতলী থেকে গুলশান অভিমুখের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে সেখান থেকে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে যানচলাচল। অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘শিক্ষা উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত, মানি না মানি না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘তিতুমীর আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘টিসি না টিইউ, টিইউ টিইউ’, ‘আমার ভাই অনশনে, প্রশাসন কী করে?, ‘প্রশাসনের সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, চলবে না চলবে না” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
এ দিন পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ব ইজতেমার জন্য তারা সড়ক অবরোধ শিথিল রাখেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা। এতে কেউ জ্ঞান হারিয়েছেন, কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় কলেজের মূল ফটকের সামনে অনশন করছেন। যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আশঙ্কাজনক শিক্ষার্থীরা হলেন- রাশেদ, রায়হান ও রানা।
দুপুরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডাক্তার রাসেল আহম্মেদ বলেন, তীব্র শীত ও দীর্ঘ অনশনের ফলে তাদের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অবস্থা বেগতিক হবে। দীর্ঘ সময় পানি পান না করার ফলে অনেকের প্রস্রাব হচ্ছে না। যার ফলে কিডনি ও লিভার বিকল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনশনকারীদের অবস্থা গুরুতর দেখে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছি। যদি হাসপাতালে ভর্তি করা না হয় তাহলে দীর্ঘদিনের জন্য শারীরিক সমস্যার মুখে পড়বে শিক্ষার্থীরা।
তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, অনশনকারীদের অবস্থা গুরুতর হলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস প্রদান করা হয়নি। আজকে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ করার কর্মসূচি থাকলেও তা প্রত্যাহার করেছি যাতে বিশ্ব ইজতেমায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কষ্ট না হয়। দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের সহযোগী সদস্য অহিদুজ্জামান অভি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত এলিটিস্ট শিক্ষা সিন্ডিকেট ভেঙে এক নতুন যুগের সূচনা হবে তিতুমীরিয়ানদের হাত ধরে। আমরা হাতেগোণা কিছু মোড়ল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থচোষা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কুক্ষিগত শিক্ষা সিন্ডিকেট ধ্বংস করে শিক্ষাকে সর্বস্তরের জনতার দ্বারে পৌঁছে দেবো। এখনই সময়। এই মুহূর্তে শিক্ষার সংস্কার প্রয়োজন।
এর আগে, গতকাল একনেক মিটিং শেষে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ৭ কলেজকে নিয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি কমিটি কাজ করছে। তবে তিতুমীর কলেজকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আন্দোলন করা ভালো। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি দিতে হবে। তিতুমীর কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরে যেতে চায়। তারা জনদুর্ভোগ চায় না। শিক্ষার্থীদের একসময় পরীক্ষায় বসতে হবে। পড়ালেখা না করে পরীক্ষা দিলে তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবি মুখে সরকার কোনো অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাত কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একে অপরকে চায় না। তাই এই কলেজগুলোকে নিয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে তবে দাবি বাস্তবায়নে সময় বেঁধে দেওয়া কাঙ্ক্ষিত নয়।
তবে শিক্ষার্থীরা তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়ে মহাখালী সড়ক অবরোধ করেন।
এর আগে, গতকাল শনিবার সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে বিবৃতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি কলেজের সমন্বয়ে একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের লক্ষ্যে ইউজিসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করছে। এক্ষেত্রে সরকারি তিতুমীর কলেজের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যের পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান।
