বিপিএলে দুর্বার রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধ না করার কারণে বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। পারিশ্রমিকের পাশাপাশি দৈনিক ভাতা পর্যন্ত না দেওয়ায় খেলোয়াড়দের নিজেকের পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করায় দলটির মালিককে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করে আদায় করা হয় নতুন প্রতিশ্রুতি।
এবার জানা গেল খেলোয়াড় তো বটেই, এমনকি দলের কাজে ব্যবহৃত বাসের চালকের টাকাও বকেয়া রেখেছিল তারা।
দলটি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার পর খবর আসে যে বিদেশি খেলোয়াড়রা খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ হারের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পরেও ঢাকার হোটেলে ছিলেন, দেশে ফেরার ফ্লাইটের অপেক্ষায়।
মোহাম্মদ হারিস, আফতাব আলম, মার্ক দেয়াল, রায়ান বার্ল এবং মিগুয়েল কামিন্স সহ খেলোয়াড়রা তখনও ঢাকার হোটেলে ছিলেন, টিকিটের অপেক্ষায়। তারা আগের ১১ দিনের দৈনিক ভাতাও পাননি।
বিপিএল খেলোয়াড়দের সাধারণত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের ফির ২৫% পরিশোধ করা হয়, বাকিটা টুর্নামেন্টের সময় এবং পরে পরিশোধ করা হয়। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খেলোয়াড়দের তাদের পারিশ্রমিকের ৭৫% পাওয়ার কথা ছিল, বাকিটা ৮ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার কথা।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের বকেয়া তো ছিলই, এমনকি বাস চালকও প্রতিবাদ করেছেন। প্রতিযোগিতার সময় খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসচালক খেলোয়াড়দের কিট ব্যাগ এবং জিনিসপত্র বাসের ভিতরে তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং বলেন যে বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে না।
রাজশাহীর বাসচালক মোহাম্মদ বাবুল বলেন, “এটা দুঃখজনক ও লজ্জার বিষয়। যদি তারা আমাদের অর্থ পরিশোধ করত, তাহলে আমরা খেলোয়াড়দের কিট ব্যাগ ফেরত দিতাম। এতদিন আমি মুখ খুলিনি, কিন্তু এখন বলছি, আমাদের বকেয়া পরিশোধ করলেই আমরা চলে যেতে পারি।”
“স্থানীয় ও বিদেশি ক্রিকেটারদের কিট ব্যাগ বাসে আছে, কিন্তু আমি সেগুলো দিতে পারছি না, কারণ আমাদের পারিশ্রমিকের একটা বড় অংশ এখনও পরিশোধ করা হয়নি।”
