নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরে পুঁজিবাজারের বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এ বছরের তিন মাসে শীর্ষ ৭ কোম্পানির বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারের উত্থান-পতনে এ কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে বাজার মূলধনের দিক দিয়ে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৭টির মূলধন কমেছে, বেড়েছে ২টির। ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় এ সময়ে একটি কোম্পানির বাজার মূলধন অপরিবর্তিত ছিল। এ সময়ে দেশের পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন বেড়েছে ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
গত তিন মাসে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার বাজার মূলধন কমেছে তামাক খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি)। এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকায়।
ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনাটা পিএলসির বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকায়।
রবি আজিয়াটার বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৪ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৭১ কোটি টাকায়।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের বাজার মূলধন এ বছরের প্রথম তিন মাসে ৭৫১ কোটি টাকা কমেছে। বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৪ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা, যা সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ ১৪ হাজার ১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বাজার মূলধন কমেছে ৭০৮ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে ব্যাংকটির বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ ব্যাংকটির বাজার মূলধন ৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গত তিন মাসে ১৬২ কোটি টাকা বাজার মূলধন কমেছে গ্রামীণফোন লিমিটেডের। বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৪৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকায়।
গত তিন মাসে ১২৯ কোটি টাকা বাজার মূলধন কমেছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের। বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৮ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত মাসের শেষ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩২৫ কোটি টাকায়।
ব্র্যাক ব্যাংকের বাজার মূলধন গত তিন মাসে ৩৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে। বছরের শুরুতে ব্যাংকটির বাজার মূলধন ছিল ৮ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ ব্যাংকটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭ কোটি টাকায়।
ওষুধ খাতের কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজার মূলধন গত তিন মাসে ২১৩ কোটি টাকা বেড়েছে। এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৯ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। গত মাসের শেষ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫১১ কোটি টাকায়।
ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় বেক্সিমকো লিমিটেডের বাজার মূলধন গত তিন মাসে অপরিবর্তিত ছিল। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১০ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।
এদিকে বাজার মূলধন কমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে রেনাটা শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকা থেকে নেমে গেছে। সে জায়গায় স্থান করে নিয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ। গত তিন মাসে কোম্পানিটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৪৮২ কোটি টাকা। এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ২৭শে মার্চ কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকায়।
