নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৫: বাংলাদেশে ইসরায়েলবিরোধী আন্দোলনের নামে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছবি বিকৃত করে অপমানজনক আচরণের ঘটনায় সৌদি আরব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যুবরাজের ছবিতে শাড়ি পরানো, গলায় জুতো ঝোলানোর মতো ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনাকে সৌদি আরব জাতীয় মর্যাদার উপর আঘাত হিসেবে দেখছে। এ ঘটনাকে তারা শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং কূটনৈতিকভাবে বিপজ্জনক ও অপরিণামদর্শী কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সৌদি নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে তীব্র সমালোচনা। একজন সৌদি নাগরিক বলেন, “বাংলাদেশিরা আমাদের দেশে এসে শ্রম দেয়, আর এখন আমাদের যুবরাজকে অপমান করে নিজেদের ‘যুদ্ধের নায়ক’ সাজতে চায়? ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাইলে নিজেরা মাঠে যান, আমাদের কেন জড়ানো হচ্ছে?”
আরেকজন কটাক্ষ করে বলেন,
“সত্যিকারের জিহাদি হলে অস্ত্র হাতে নিয়ে লড়াই করুন। আমরা ডোনেশন দিতে রাজি। ছবি এডিট করে যুদ্ধ জেতা যায় না।”
সৌদি আরবের কিছু নাগরিক বাংলাদেশিদের “ধর্মান্তরিত মুসলিম” আখ্যা দিয়ে তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, যা অত্যন্ত আপত্তিকর।
তারা বলেছেন, “ইহুদিরা এদের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।” এমন বক্তব্য যতই বিতর্কিত হোক, বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই বেপরোয়া আচরণই এর পটভূমি তৈরি করেছে।
এ ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারেন সৌদি আরবে কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী, যাদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কূটনৈতিক সংকট গভীর হলে তাদের জীবন ও জীবিকার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময় আছে। রাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে সৌদি আরবের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা এবং এটি কিছু উগ্র গোষ্ঠীর দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ বলে স্পষ্ট করা। নইলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
ইউনূস-সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

