ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: ‘আমরা উত্তেজনা বাড়াচ্ছি না, প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি মাত্র’—বললেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: ‘আমরা উত্তেজনা বাড়াচ্ছি না, প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি মাত্র’—বললেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ৮ মে ২০২৫: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে পাকিস্তান ‘যুদ্ধের আহ্বান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “ভারত যদি উত্তেজনা না বাড়ায়, পাকিস্তান কিছু করবে না।” এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি বলেছেন, “আমরা উত্তেজনা বাড়াচ্ছি না, আমরা মূল হামলার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।”

বুধবার ভোরে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে বিমান হামলা চালায়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলা লক্ষ্যবস্তু ছিল সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা ও জৈশ-ই-মোহাম্মদের ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’। ভারতের দাবি, হামলায় কোনো সামরিক বা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়নি। তবে পাকিস্তান জানায়, এতে ২৬ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেসামরিক লোকজনও রয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি বলেন, “২২ এপ্রিলের হামলাই মূল উত্তেজনার কারণ। আমাদের গোয়েন্দা তথ্যে জানা গিয়েছিল, পাকিস্তান থেকে আরও হামলার পরিকল্পনা চলছে। তাই আমরা প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “ভারত উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। আমাদের পদক্ষেপ ছিল সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং দায়িত্বশীল।” মিসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং জানান, হামলায় নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। তবে জৈশ-ই-মোহাম্মদের নেতা মাসুদ আজহার দাবি করেছেন, হামলায় তার পরিবারের ১০ জন সদস্য, যার মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে, নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “পাহালগাম হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক নেই। ভারত ভুল কারণে আমাদের অভিযুক্ত করছে।” তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন এবং সামরিক বাহিনীকে প্রতিক্রিয়া জানানোর পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় বৈশ্বিক নেতারা উভয় দেশকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “বিশ্ব ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত বহন করতে পারে না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “আমি আশা করি এটি দ্রুত শেষ হবে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানে সফর করছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে বিমান চলাচল করছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে অবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এবং ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন বিশ্বের নজরে।

Visited 31 times, 1 visit(s) today