নিজস্ব প্রতিবেদক::
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মোটরসাইকেল জব্দকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) কার্যালয়ের একটি কক্ষ, জানালা, থানার গেট এবং একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রহীন মোটরসাইকেল জব্দ করার কারণে তারা এই হামলা করে বলে জানায় পুলিশ। হামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ৩৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত কনস্টেবল মো. বিল্লালকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
এসপি জানান, ঘটনার সময় নড়িয়া থানা পুলিশের সদস্যরা বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। পরে জব্দ করা মোটরসাইকেলের মালিকপক্ষ সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা সার্কেল এএসপির বাসভবনের নিচতলার জানালার কাঁচ, একটি কক্ষ ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ভবনের ক্ষতি করে।
তিনি আরও বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা কয়েকজনকে আটক করেছি। হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় সূত্র ও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পুলিশ রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিল। কাগজপত্র না থাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর দাবি করেন, “ঘটনায় বিএনপি কিছু কর্মী জড়িত ছিল। তবে অভিযুক্তদের কোনো দলীয় পদ নেই। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে, তার দলীয় পরিচয় যেমনই হোক, আমাদের দলে তার স্থান হবে না।”
এ ঘটনায় নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. আশিক মাহমুদ বলেন, “হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
