বন্ধ ১৪টি সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ, চুটিয়ে ব্যবসা করছে বেসরকারি হাসপাতাল

বন্ধ ১৪টি সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ, চুটিয়ে ব্যবসা করছে বেসরকারি হাসপাতাল
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টে ভোগা চান্দু মিয়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেও সেখানে আইসিইউ সেবা না থাকায় সাধারণ ওয়ার্ডে ঝুঁকি নিয়ে চলছিল তার চিকিৎসা। এটি রাজধানীর অন্যতম সরকারি হাসপাতালের বাস্তবচিত্র। শুধু সোহরাওয়ার্দী নয়, নান সংকটে দেশের ১৪টি সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট চার মাস ধরে বন্ধ। এতে প্রতিদিন শতাধিক রোগী জীবনরক্ষাকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারেরও দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই সমস্যা নিরসনে। এতে বিপাকে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান জানান, চার মাস ধরে জনবল না থাকায় আইসিইউ বন্ধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে ৪৮ জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য ৫১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। সে অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিটে গড়ে খরচ হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। কিন্তু সেসময় নিয়োগকৃত কর্মীদের ছাঁটাই করায় এসব ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে এখন। ফলে ১৪৯ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, “আইসিইউ সেবা সচল থাকলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা হতো। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগের অভাবে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”

সরকারি হিসেব মতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (ঢাকা), মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (বগুড়া), টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এই সেবা কার্যক্রম বন্ধ আছে।

আর এই সুযোগ নিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। সরকারি হাসপাতালের তুলনামূলক কম খরচের আইসিইউ সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ। যদিও আইসিইউ শয্যা ফাঁক পাওয়াটা একটু কঠিন, তবুও যতটা মিলত, কিছু মানুষের কাজে আসত। অথচ বর্তমান অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো আইসিইউ সুবিধার নামে চুটিয়ে ব্যবসা করছে একচেটিয়া। রীতিমত পাঁচ তারকা হোটেলের কামরার মত উচ্চমূল্যের আইসিইউ বেড ভাড়া, সাথে চিকিৎসা খরচ আলাদা এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ তো আছেই। রোগির প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে পরিবারকে।

আইসিইউ না থাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ১০-১৫ জন রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সারাদেশের রোগিরাই এই সমস্যায় আছেন। বাগেরহাটে মাসে ৪০-৫০ রোগীকে খুলনা বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, পথেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। টাঙ্গাইলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ না থাকায় চার মাস ধরে আইসিইউ বন্ধ। সুনামগঞ্জে ২ বছর আগে স্থাপিত হলেও এখনো চালু হয়নি আইসিইউ ইউনিট।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. শেখ ছাইদুল হক জানান, কভিড প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে রূপান্তরের প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি সময়সাপেক্ষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিইউ যন্ত্রপাতি অতি স্পর্শকাতর, দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে সেবা পুনরায় চালুর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Visited 83 times, 1 visit(s) today