নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটা বাতিলের আন্দোলন করে রাষ্ট্র ক্ষমতার পট-পরিবর্তন ঘটানোর পর আন্দোলনকারীদের পছন্দের ইউনূস-সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। ড. ইউনূসের সরকার সেই আন্দোলনকারী ও তাদের পরিবারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, চাকরিসহ রাষ্ট্রীয় সকল পর্যায়ে বিশেষ ‘সুবিধা’ এবং কোটা বরাদ্দ দিয়ে জন্ম দিয়েছে বিতর্কের।
এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে গেজেটভুক্ত বৈছা কর্মীদের জন্য কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে নিহত-আহতদের মধ্যে যারা সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য প্রথমবারের মতো করছাড়ের এই সুবিধা থাকছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই আয়সীমা আগামী দুই করবর্ষে কার্যকর থাকবে।
সাধারণ করদাতাদের জন্যও কিছু ছাড় থাকছে। ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব করদাতাদের জন্য সীমা বাড়ছে ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের নতুন সীমা হবে ৫ লাখ টাকা। যা আগে ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এছাড়া, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করছাড়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্যও করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা বা অভিভাবকের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি হবে। তবে মা-বাবা দুজনই করদাতা হলে সুবিধা পাবেন একজন।
নতুন বাজেটে আগামী দুই অর্থবছরের জন্য আয়কর হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর প্রযোজ্য হবে না। এরপরের ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখে ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখে ২০ শতাংশ, আরও ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং বাকি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
৫ই আগস্টের পর ক্ষমতারোহনকারী অন্তর্বর্তী সরকারের এটা প্রথম বাজেট। এবার সংসদ না থাকায় বাজেট উপস্থাপন হবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। সোমবার বিকেল ৪টায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।
