ইসরায়েলের রাইজিং লায়নের জবাবে ইরানের ট্রু প্রমিস-৩ অপারেশন

ইসরায়েলের রাইজিং লায়নের জবাবে ইরানের ট্রু প্রমিস-৩ অপারেশন
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

‘রাইজিং লায়ন’ নামের ইসরায়েলি অপারেশনের জবাবে ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকান গার্ড কর্পস (IRGC) রাতে ‘ট্রু প্রমিস-৩’ নামে পাল্টা অপারেশন শুরু করেছে।

ইসরায়েলের আক্রমণে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতৃত্ব এবং পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যু হওয়ার পর এই অপারেশনটি চালু করা হয়েছে, যা ইরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি বাহিনী ১৩ই জুন ভোরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক কেন্দ্রে বড় আকারের হামলা চালায়, এতে IRGC-এর প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি এবং সেনাবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাগেরিসহ অন্তত চার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও নাতানজের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় প্রায় ৭৮ জন নিহত এবং ৩২০ জন আহত হয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরান রাতেই ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে।

IRGC-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ট্রু প্রমিস-৩’ অপারেশনে ইসরায়েলের সামরিক কেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং অস্ত্র নির্মাণ কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

ইরান সরকারের দাবি, এই আক্রমণে অধিকাংশ মিসাইল ইসরায়েলের টার্গেট করা এলাকায় সফলভাবে পড়েছে।

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম) দ্বারা অধিকাংশ মিসাইল ব্যর্থ করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি সামান্য। তেল আবিব ও জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে গুরুতর ক্ষতির কথা জানা যায়নি।

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই হামলার জন্য “কঠিন পরিণতি” ভোগ করবে।

একইভাবে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক হিসেবে এই সংঘর্ষের পরিণতির জন্য দায়ী। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘রাইজিং লায়ন’ অপারেশন ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার জন্য চলমান থাকবে।

তিনি জানিয়েছেন, হামলাটি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সংঘর্ষের ফলে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের বন্ধ আকাশপথ এবং বিমান পরিষেবার বিভ্রাট এই বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। কেউ কেউ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কাও দেখতে পাচ্ছেন এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today