নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ই জুলাই ২০২৫
গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশের কারাগারগুলোতে হামলা চালিয়ে বন্দীদের বের করে এনেছিল আন্দোলনকারীরা। এসময় হাজার হাজার বন্দী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যার মধ্যে ছিল ভয়ঙ্কর খুনি, দুর্ধর্ষ জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসী, ফাঁসির আসামিসহ বিভিন্ন দাগী অপরাধী। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫২০ বন্দীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তাদের ১ হাজার ১৩০ জনকে আবার জামিনও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ৭২১ বন্দী পলাতক।
এ ছাড়া, দেশের পাঁচ কারাগার থেকে খোয়া যাওয়া অনেক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।
বাংলাদেশে কারাগারে আটক জঙ্গিদের পালানোর শুরুটা হয়েছিল গত বছরের ১৯শে জুলাই। দিন দুপুরে নরসিংদী তো বটেই, সারাদেশকে অবাক করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে জেলা কারাগার চারদিক থেকে ঘিরে ধরে ফেলে বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কয়েক হাজার সদস্য। কোটা সংস্কার আন্দোলন সবে জোরদার হচ্ছে। তখনই ঘটে দেশের কারা-ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ঘটনা। কারাগারে থাকা ৯ জঙ্গিসহ ৮২৪ জন বন্দির সকলেই পালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, কারাগারের অস্ত্রাগারে থাকা ৮৫টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-গোলাবারুদ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম লুটে নিয়ে যায় হামলাকারী, যারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে। তাদের সাথে ছিল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও।
নরসিংদীর ওই ঘটনার পর সারাদেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর কারাগার খ্যাত গাজীপুরে অবস্থিত কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের। এখানেই সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ সহস্রাধিক ফাঁসির আসামি রাখা হয়েছিল। কারারক্ষীদের পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয় সেখানে।
তবে পরিস্থিতি বদলে যায় ৫ই আগস্ট, যখন শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে নরসিংদী কারাগারে মতো হাজার হাজার কথিত ছাত্র-জনতা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার ঘিরে ফেলতে থাকে। যার নেতৃত্বে ছিলেন ‘শিশু বক্তা’ খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানী। প্রায় আড়াই বছর কারাভোগের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরের শুরুতে এই কারাগার থেকেই মুক্তি পান রফিকুল। এক পর্যায়ে কারাগার ঘিরে ফেলার খবর পৌঁছে যায় কয়েদি-হাজতিদের কাছেও। তারাও বিক্ষোভ-মিছিল শুরু করে দেয়।
এর ফলে কারা অভ্যন্তরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। হাই সিকিউরিটি কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা। পুরো বাংলাদেশের মতো গাজীপুরও বিশৃঙ্খল, সহিংস ও রক্তাত্ত। কী করবেন তিনি? সেই উত্তর খুঁজে ফিরছিলেন তার ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছ থেকে। কিন্তু কাউকেই রিচ করতে পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে একজন জেলসুপারসহ আরও অন্তত ৩ জন কারা-কর্মকর্তা নির্ঘুম রাত পার করেন কোনোরকমে।
পরদিন ৬ই আগস্ট সকালে কারা অভ্যন্তরে অল্পসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বাইরের বিক্ষোভকারী আর ভেতরে থাকা বন্দিদের আক্রমণ ঠেকানোর কোনো চেষ্টাই তারা করেনি। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে আনা হয় সেনাবাহিনীর একদল কমান্ডোকে। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই কয়েকশত বন্দি কারারক্ষীদের ওপর হামলা ও তাদের জম্মি করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। যাদের মধ্যে অসংখ্য জঙ্গি ও শীর্ষ অপরাধীরাও ছিলেন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগে সাধারণ কয়েদিরাও পালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে গুলি চালান কমান্ডোরা। এতে নিহত হন হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালানো ৩ জঙ্গিসহ ৬ জন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ধর্ষ বন্দীরা বাইরে থেকে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে পারেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ই আগস্টের আগে ও পরে দেশের কয়েকটি কারাগার থেকে ২ হাজার ২৪০ বন্দী পালিয়ে যান। আন্দোলনরতরা কারাগারে হামলা চালিয়ে ৯৪টি শটগান ও চায়নিজ রাইফেল লুট করেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ বন্দী মারা যান। পলাতকদের মধ্যে জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়াসহ বিচারাধীন মামলার আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২০৩ জন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পলাতক বন্দীদের খুঁজে পাচ্ছে না। ধারণা করা হয়েছে, তারা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন।
২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই হাজার হাজার লোক ফটক ভেঙে নরসিংদী জেলা কারাগারে ঢুকে পড়েন। তারা কারাগারের সেলগুলো খুলে দেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ বন্দী পালিয়ে যান।
নরসিংদী জেলা কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক শামীম ইকবাল বলেন, ঘটনার পর প্রশাসন ঘোষণা করে, যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না। তখন ৬৪৬ বন্দী আত্মসমর্পণ করেন। এ ছাড়া ৩ জঙ্গিসহ ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখনও ১৪২ বন্দী পলাতক। কারা-অফিসের অনলাইন সিস্টেম ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। ফলে পলাতক বন্দীদের বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।
কারাগার সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ই আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা প্রধান ফটক ভেঙে গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা কারাগারের ভেতর তৃতীয় তলার একটি গুদাম ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারা বন্দীদের ফাইলপত্র নষ্ট করে। ওই কারাগার থেকে ২০২ জন বন্দী পালিয়ে যান। তাদের অধিকাংশ জঙ্গিবাদের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে ছিলেন।
আন্দোলনকারীরা বুয়েটের শিবির কর্মী আবরার হত্যার আসামি অপর শিবির কর্মী জেমিকেও বের করে আনে। কারাসূত্র জানিয়েছে, নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আব্দুল মজিদের ছেলে মুনতাসির আল জেমি (২৬) গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই কয়েদির নম্বর ছিল ৫১৭৭। ৬ই আগস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা কারাগারের দেয়াল ভেঙে ২০২ জন বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেন। তাদের মধ্যে ৮৭ জন ছিলেন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কয়েদি, যার মধ্যে জেমিও ছিলেন।
৭ই আগস্ট প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ৫ই আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের সংবাদ কারা-অভ্যন্তরে পৌঁছানোর পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দী খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিসহ ভয়ঙ্কর অপরাধীরা জেল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বিক্ষোভ শুরু করেন। মূলত বাইরে থেকে আন্দোলনকারীদের উস্কানিতেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশজুড়ে অরাজকতা, পুলিশ হত্যার খবরে ইতিমধ্যে কারারক্ষীদের মনোবলে চিড় ধরেছিল। তারা প্রাণভয়ে ভীত ছিলেন।
জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, ঘটনার দিন দুপুর ১২টা থেকে কারাগারে বন্দিরা বিক্ষোভ ও বিদ্রোহ শুরু করেন। এ সময় অনেক বন্দি মই ব্যবহার করে ও দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে সেনাবাহিনীর কয়েকটি দল কারাগারে পৌঁছায়। এই অবস্থাতেই বহিরাগতদের সাহায্যে কারারক্ষীদের জিম্মি করে ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে যান। বন্দি পালানো ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও কারারক্ষীদের ছোড়া গুলিতে ৬ জন নিহত হন। যার মধ্যে ৩ জন জঙ্গি ছিলেন। বাকি ২০৯ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
আন্দোলনকারীদের সাথে মিলে জঙ্গিদের স্বজনরাই কারাগারে হামলা চালিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। যাতে দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজকতার ডামাডোলের মধ্যে কারাগার ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে। এভাবে বেরিয়ে আসাদের মধ্যে অনেক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গিরাও ছিলেন। যারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
কারা সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় কয়েকশ দুর্বৃত্ত সাতক্ষীরা কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে কারাগারে ঢুকে তালা ভেঙে ৫৯৬ বন্দীকে বের করে নিয়ে যায়।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ক দেব দুলাল কর্মকার বলেন, এখন পর্যন্ত ৫২৯ বন্দী আত্মসমর্পণ করেছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পালিয়ে যাওয়া ২৩ বন্দীকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন ২ নারীসহ ৪৪ বন্দী পলাতক।
৫ই আগস্ট বিকেলে আন্দোলনকারীরা শেরপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। ওই সুযোগে কারাগারে থাকা ৫১৮ বন্দী পালিয়ে যান। এ সময় আন্দোলনকারীরা ওই কারাগার থেকে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র (৫ চায়নিজ রাইফেল ও ৪টি শটগান) লুট করে নিয়ে যায়।
এভাবে বন্দি পালানোর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। বলা হয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দেশের একমাত্র হাই সিকিউরিটি কারাগার ছিল কাশিমপুর কারাগার। অথচ এই কারাগার সেদিন কীভাবে ভেঙে ফেলে ‘ছাত্র-জনতা’? কারাগারের ভেতরের বন্দিরা কীভাবে ২৫ থেকে ৩০ জন কারারক্ষীর ওপর হামলা করে তাদের গুরতর আহত করে? সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে কীভাবে এত শক্ত দেয়াল ভেঙে ফেলতে পারে? বিদ্যুতের বিশাল খুঁটি দিয়ে মই বানাতে পারে? এজন্য কতটা সময় পেয়েছিলেন বন্দিরা? বাইরে থেকে কারা সহায়তা করলো? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো কেউ দিতে পারেননি। কারা কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবাই মুখে কুলুপ এঁটেছে। কারো কাছে কোনো উত্তর নেই।
জঙ্গিদের এভাবে পালিয়ে যাওয়ার চিত্র শুধু নরসিংদী, কাশিমপুর আর সাতক্ষীরা কারাগারেই নয়, ৫ই আগস্টের পর দেশের বেশিরভাগ কারাগারে প্রায় একই ঘটনা ঘটতে থাকে। চট্টগ্রামের লালদিঘী এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয় কারারক্ষীদের সাথে। ৯ই আগস্টের সেই ঘটনার দিন কয়েদিরা বিদ্রোহ করেন। বাইরে থেকে সন্ত্রাসী-জঙ্গীরা বিভিন্ন থানা থেকে লুটকৃত অস্ত্র নিয়ে কারারক্ষীদের ওপর গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। কয়েকজন কয়েদি তাতে আহত হন।
এছাড়া কারাগারের বাইরে থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন কয়েকজন কারারক্ষী। একইসাথে কয়েদিদের হামলাতেও আহত হন কারা-কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রক্ষী। সেনাবাহিনী ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে কয়েদিদের বের করে আনতে হামলা চালানো কয়েকজন সন্ত্রাসী হতাহত হন বলে অসমর্থিত সূত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কোনো কয়েদি পালাতে পারেননি বলে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও এর সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। এখানেই বন্দি ছিল জামায়াত-শিবিরের অনেক খুনি।
সারাদেশে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের পরিকল্পিতভাবে হয় ছড়িয়ে নেওয়া হয় অথবা ছেড়ে দেওয়া হয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, এতদিন পরেও অধরা রয়ে গেছে অসংখ্য দুর্ধর্ষ অপরাধী। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া এই জঙ্গিদের বেশিরভাগের ঠাঁই হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের গোপন আস্তানায়।
নরসিংদী কারাগারের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে লুট হওয়া ভারী অস্ত্র-গোলাবারুদের অনেকটাই জঙ্গিদের হাতে চলে গেছে। ৪ঠা আগস্ট থেকে পরবর্তী কয়েকদিনে সারাদেশে সাড়ে চারশ’র বেশি থানা ধ্বংস করে দেওয়ার পর সেখান থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, তার বৃহৎ অংশ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে। গণভবন ও সংসদ ভবনে এসএসএফ-এর অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোয়েন্দা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সামগ্রী, স্পর্শকাতর অ্যাক্সেসরিজ কিছুই উদ্ধার হয়নি এখনও। যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে সংযোগকারী যন্ত্রপাতিও।
লুটকৃত অস্ত্রের কিছুটা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যে। এসব অস্ত্র-গোলাবারুদ আগস্টের পর থেকে সারাদেশ সহিংসতা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাও এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দেশে নাশকতা ঘটাতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাঝে এসব নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। এরমধ্যে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ যেসব অস্ত্র উদ্ধারের কথা ছিল, তা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি ক্রমশ বাড়ছে।
