স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ঘৃণ্য বক্তব্যে দেশজুড়ে ক্ষোভ: ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় আঘাত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ঘৃণ্য বক্তব্যে দেশজুড়ে ক্ষোভ: ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় আঘাত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এক বক্তব্য সেই অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মন্তব্যে হিন্দুধর্মকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে এবং পূজা-আচারকে অবমাননাকরভাবে “মদ-গাঁজার আসর” বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এমন বক্তব্যকে বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ একযোগে ঘৃণ্য, অশ্রদ্ধাজনক ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

তাদের মতে, পূজা মানে ভক্তি, প্রার্থনা, আনন্দ ও মিলনের উৎসব; সেটিকে অবমাননা করা মানে গোটা জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আঘাত করা। একদিকে সরকার উগ্রপন্থীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে হেয় করছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এমন মন্তব্য বিভাজন, সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও ধর্মভিত্তিক বিভেদ তৈরির ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মিলিত ঐতিহ্যে গড়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতেই নির্মিত। কিন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ধর্মীয় ঘৃণার বার্তা আসা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।

রাষ্ট্রের একজন দায়িত্ত্বশিল ব্যাক্তির এ ধরনের বক্তব্য শুধু সরকারের অদক্ষতাই নয়, বরং জাতির মৌলিক ঐক্যের প্রতি আঘাত। বরাবরের মতই, বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপূজায় মদ-গাঁজার আসর বসানো যাবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবি করেন, পূজা উপলক্ষ্যে আশেপাশে যে মেলা বসে সেখানে মদ ও গাঁজার আসর বসে। এবার এসব মেলা হবে না। গাঁজা ও মদের আসর বসানো যাবে না।

তার এমন মন্তব্য দুর্গাপূজা ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চেতনা এবং উৎসব পালনের প্রতি কটাক্ষ করা হয়েছে বলে দেশজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।

Visited 19 times, 1 visit(s) today