❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ লাখ ২০ হাজার, যেখানে ২০২৩ সালের শেষে এ সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৬০ হাজার। বেকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১৩.৫৪ শতাংশ, স্নাতক ডিগ্রিধারী। একইসঙ্গে দেশে কর্মরত জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী বেকারত্ব
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বেকারদের মধ্যে সর্বোচ্চ হার স্নাতক পর্যায় পেরোনোদের। বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক বেকার ১৩.৫৪ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা বেকারদের হার ৭.১৩ শতাংশ। মাধ্যমিক পাস বেকারদের হার ১.৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্ব সবচেয়ে কম—শুধু ১.২৫ শতাংশ।
বেকারের সংজ্ঞা
বিবিএস বেকারত্ব নির্ধারণে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নীতিমালা অনুসরণ করে। কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যারা কোনো কাজে নিয়োজিত নয়, কাজ খুঁজছে এবং সুযোগ পেলে যোগ দিতে প্রস্তুত—তাদের বেকার হিসেবে গণনা করা হয়। তবে সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা মজুরি ভিত্তিক কাজ করলে তাকে আর বেকার ধরা হয় না। পরিবারের জন্য হাঁস-মুরগি পালন কিংবা বিনা মজুরিতে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত থাকলেও বেকার ধরা হয় না। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের শ্রমশক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জরিপের পদ্ধতি
জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয় ২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় সারা দেশে ১ হাজার ২৮৪টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা নির্বাচন করা হয় এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ত্রৈমাসিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মোট চার প্রান্তিকে পরিবারের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ২৬৪।
বিভাগভিত্তিক বেকারত্ব
বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সর্বাধিক বেকার ঢাকা বিভাগে—মোট ৬ লাখ ৮৭ হাজার। এর পর চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ লাখ ৮৪ হাজার এবং রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৫৭ হাজার বেকার রয়েছে। খুলনায় ৩ লাখ ৩১ হাজার, সিলেটে ২লাখ ১৬ হাজার, রংপুরে ২ লাখ ৬ হাজার, বরিশালে ১ লাখ ৩৯ হাজার এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৪ হাজার বেকার আছে।
গ্রাম ও শহরের চিত্র
শিক্ষিত বেকারত্ব গ্রাম-শহর উভয় ক্ষেত্রেই নিরক্ষর বেকারত্বের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শহরে শিক্ষিত নারীর বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, যা দাঁড়িয়েছে ৭.৬০ শতাংশে। অন্যদিকে গ্রামে শিক্ষিত নারীর বেকারত্ব প্রায় ৩ শতাংশ।
পুরুষ ও নারী বেকারত্ব
২০২৪ সালের শেষে দেশে পুরুষ বেকারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখে, যেখানে ২০২৩ সালে এটি ছিল ১৬ লাখ ৪০ হাজার। নারী বেকারের সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে গেছে ৮ লাখ ২০ হাজারে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৬৫ শতাংশে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। বর্তমানে পুরুষ বেকারত্বের হার ৩.৭৫ শতাংশ এবং নারী বেকারত্বের হার ৩.৪৬ শতাংশ।
শ্রমশক্তির অবস্থা
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালের শেষে কর্মে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৯০ শতাংশে, যেখানে আগের বছর তা ছিল ৬০.৯০ শতাংশ। অন্যদিকে শ্রমশক্তির বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫০ হাজারে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৪ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার।
কৃষি, শিল্প ও সেবা—তিন খাতেই কর্মসংস্থানের হার কমেছে। দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা এক বছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজারে, যা আগের বছর ছিল ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমেছে ১৭ লাখ ২০ হাজার। পুরুষ ও নারী উভয়ের শ্রমশক্তি কমেছে। বিশেষ করে যুব শ্রমশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২ কোটি ২৬ লাখে নেমে এসেছে, যেখানে ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৬৭ লাখ।
