৬৯ কল রেকর্ডে শেখ হাসিনার সাজা অনিশ্চিত, হাজার রেকর্ড মুছে ফেলায় আইনজীবীদের আফসোস!

৬৯ কল রেকর্ডে শেখ হাসিনার সাজা অনিশ্চিত, হাজার রেকর্ড মুছে ফেলায় আইনজীবীদের আফসোস!
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৫: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দমনে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৯টি ফোন রেকর্ড ও অডিও ক্লিপ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, “আমাদের হাতে যা কল রেকর্ড আছে, তাতে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করতে যথেষ্ট।”। অথচ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রিব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে, প্রায় এক হাজার কল রেকর্ড এনটিএমসির সার্ভার থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে। এই দ্বৈত অবস্থান আইনজীবীদের যুক্তির অসাড়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায়, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের নির্দেশে চারটি ফোন নম্বরের মালিকানা তথ্যসহ হাজারখানেক কল রেকর্ড মুছে ফেলা হয়। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং একজন সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রীর কল রেকর্ডও রয়েছে। তানভীর জোহা বলেন, “এই মুছে ফেলা ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, কিন্তু এটি তদন্তে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে।”

আইনজীবীদের এই দ্বৈত যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে: যদি ৬৯টি কল রেকর্ড শেখ হাসিনাকে সাজা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়, তবে হাজার রেকর্ড মুছে ফেলার অভিযোগ কেন? এটি কি ইঙ্গিত করে না যে, হাতে থাকা প্রমাণগুলো মামলার জন্য অপর্যাপ্ত বা দুর্বল? অথবা হাজার কল রেকর্ড যদি মুছে ফেলতে পারে, তাহলে ৬৯টি কল রেকর্ডই বা এলো কোথা থেকে?

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযোগ প্রসিকিউশনের অবস্থানের দুর্বলতা এবং তথ্যের অসঙ্গতিকে প্রকাশ করে। সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “একদিকে প্রসিকিউটর দাবি করছেন ৬৯টি রেকর্ডই যথেষ্ট, অন্যদিকে মুছে ফেলা রেকর্ডের জন্য তদন্তে বাধার কথা বলছেন। এটি যুক্তির অসাড়তা এবং প্রমাণের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যদি ৬৯টি কলই যথেষ্ট, তবে হাজার রেকর্ড মুছে ফেলার অভিযোগ কেন? এটি কি প্রমাণ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র নয়?”

আরেকজন মন্তব্য করেন, “এই ধরনের অসঙ্গতি আইসিটির বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে। সবই যদি মুছে ফেলা হবে, তাহলে ৬৯ কল রেকর্ড রাখলো কেন? তাহলে কি এগুলো বানানো?””

আইসিটির প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, উপস্থাপিত ৬৯টি রেকর্ডে শেখ হাসিনার নির্দেশে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো  এবং অগ্নিসংযোগের প্রমাণ রয়েছে। তবে মুছে ফেলা হাজার রেকর্ডে আরও গুরুতর অভিযোগ, যেমন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স এবং গণহত্যার নির্দেশ থাকতে পারত বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রসিকিউশনের দাবি এবং মুছে ফেলা প্রমাণের অভিযোগ একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে। আইনজীবীদের এই অসঙ্গত যুক্তির কারণে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ বাড়ছে। ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে মুছে ফেলা ডেটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, কিন্তু এটি কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই ঘটনা কেবল আইসিটির তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতাই নয়, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রমাণের সুরক্ষা ও স্বচ্ছতার অভাবকেও তুলে ধরছে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today