নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কয়েকদিন বন্দীদশায় থাকার পর দেশে ফিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।
১১ই অক্টোবর, শুক্রবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “এরা চোর, লিখিতভাবে ১৬০০ ডলার ছিল, ১৩০০ ডলার পেয়েছি। ঘড়ি, আংটি, লেকলেস—অন্যান্য কিছু থাকে, একজনও কিছু ফেরত পাইনি।”
তার পাশে থাকা স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শেইম, শেইম।”
শহিদুল আলম ও তার দল গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক মানবিক মিশন ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের অংশ ছিলেন। গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই দলটি সাইপ্রাস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রাপথে ৬ই অক্টোবর তাদের নৌযান “দ্য উইদিন আওয়ার লাইফটাইম” আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়। এতে শহিদুল আলমসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও শান্তিকর্মীরা ছিলেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের গাজা উপকূলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক রাখে। কয়েকদিন পর তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বিমানবন্দরে ফিরে শহিদুল আলম বলেন, “আমরা সেখানে যাইনি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, বরং মানবিক কারণে। গাজার মানুষ যে ভয়াবহ অবস্থায় আছে, আমরা সেটা বিশ্বকে জানাতে গিয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের যেভাবে আটক করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের কেউ আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি, এমনকি খাবার বা বিশ্রামের ন্যূনতম সুযোগও দেওয়া হয়নি।”
ফ্রিডম ফ্লোটিলা সংগঠনের আন্তর্জাতিক শাখা এর আগেই এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ভঙ্গ করে মানবিক অভিযানে অংশ নেওয়া তাদের নৌযান আটক করেছে।
এর আগে বিডি ডাইজেস্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শহিদুল আলমের সঙ্গে থাকা দলে যুক্ত ছিলেন নরওয়ে, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল “গাজার অবরোধ ভাঙা নয়, বরং বিশ্ব জনমত গড়ে তোলা”—যেমনটি শহিদুল আলম নিজেই যাত্রার আগে জানিয়েছিলেন।
