বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা প্রতিনিধি দলের সফর এবং তার পরপরই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসা ও পরিদর্শন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা-কল্পনার ঝড় উঠেছে।
উচ্চপর্যায়ের সামরিক সূত্র থেকে জানা যায়, তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার নিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নীরবে বাংলাদেশ সফর এবং সেনাপ্রধানের ঝটিকা সফর দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্বের প্রশ্ন তুলেছে।
তবে মূলধারার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। সেনা সদর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আইএসপিআর থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা শঙ্কা ও গুঞ্জনের।
সূত্রমতে, ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল কুন্দন সিং-এর নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফর শেষে তারা ১৬ই অক্টোবর নিজ দেশে ফিরে যান। এই সফরসূচিতে তাদের লালমনিরহাট এবং সৈয়দপুরের দুটি পুরনো বিমানবন্দর পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তাদের সফরে সেনাপ্রধানের সাথে কোনো সাক্ষাৎ অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের বিমানবন্দরটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, যা ভারতের ‘চিকেন নেক’ অঞ্চল খ্যাত শিলিগুড়ি করিডরের অত্যন্ত নিকটবর্তী। এলাকাটি ভূ-কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর; কারণ এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযোগকারী একটি সরু পথ।
প্রতিনিধি দলের সফরে তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহারের খবরও সূত্র থেকে উঠে এসেছে, যা এই নীরব সফরের গতিপ্রকৃতি এবং গোপনীয়তার বিষয়টি আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
এই সফরের পরপরই বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একই বিমানবন্দরে দুটি পরিদর্শন করেন। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলে তার এই সফর পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে একে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন।
কেউ কেউ বলছেন, এটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ, আবার কেউ শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে বিদেশি গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা বা সামরিক ব্যবহার নিয়ে গুঞ্জন চলছে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনাগুলোর কোনোটিই মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। সেনা সদর দপ্তর বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে কোনো বিবৃতি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য ছড়িয়ে পড়লে একে গুজব আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তবে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন গুঞ্জন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের গোপনীয় সফর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার অংশ হতে পারে, তবে স্বচ্ছতার অভাবে শঙ্কা বাড়ছে।


