বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক পান্নার জামিন

বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক পান্নার জামিন
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়ায় প্রথমে মব হামলার শিকার এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশে-বিদেশে তুমুল সমালোচনার শিকার হয় ইউনূস সরকার।

বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, ফজলুর রহমান ও এম আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া। অন্যদিকে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, রমজান আলী শিকদার ও প্রিয়া আহসান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী।

আইনজীবী রমজান আলী শিকদার জানান, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী মঞ্জুরুল আলমের কারামুক্তিতে আপাতত কোনো বাধা নেই। একইভাবে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী এম আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপত্তি না তুললে তাঁর মক্কেলও মুক্ত হতে পারবেন।

গত ২৮শে আগস্ট সকালে ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিতে যান লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ কয়েকজন। আয়োজক ছিল ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি সংগঠন।

সকালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনা শুরু হয় বেলা ১১টার দিকে। প্রথম বক্তা শেখ হাফিজুর রহমান বক্তব্য শেষ করার পরই মিছিল নিয়ে একদল ব্যক্তি মিলনায়তনে ঢুকে পড়ে। তাঁরা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁরা ব্যানার ছিঁড়ে উপস্থিত বক্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা লতিফ সিদ্দিকী, শেখ হাফিজুর রহমান ও মঞ্জুরুল আলমসহ অন্তত ১৬ জনকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

পরে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। আটক হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ওই রাতেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

আলোচনার প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন, তবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

Visited 20 times, 1 visit(s) today