পুলিশ ইউনিফর্মে আসিফের মিলিশিয়া বাহিনীঃ জুলাই যোদ্ধাদের অস্ত্রে সজ্জিত করে আ.লীগ-এর কর্মসূচি দমনের পরিকল্পনা

পুলিশ ইউনিফর্মে আসিফের মিলিশিয়া বাহিনীঃ জুলাই যোদ্ধাদের অস্ত্রে সজ্জিত করে আ.লীগ-এর কর্মসূচি দমনের পরিকল্পনা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৫ | জুলাইয়ে ছাত্র-জঙ্গি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে এবার সেই আন্দোলনে সবচেয়ে সাহসী ও যোগ্য ‘যোদ্ধাদের’ অস্ত্র সজ্জিত করে রাজপথে নামাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নির্দেশে গঠিত ৯ হাজার সদস্যের বেসরকারি মিলিশিয়ার কয়েক হাজার যুবককে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিয়ে ১০-১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা হচ্ছে।

নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা বাংলাদেশ পুলিশের গোপনীয় ৯ পৃষ্ঠার “স্পেশাল সিকিউরিটি প্ল্যান” নথি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশের ইউনিফর্মে ‘অক্সিলারি ফোর্স’নথি অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর ৯টি সেক্টরে মোট ৬,৮২৯ জন ‘পুলিশ’ কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে শত শত যুবক—যারা আসিফ মাহমুদের নির্দেশে গঠিত, ট্রেনিংপ্রাপ্ত অক্সিলারি ফোর্সের সদস্য—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্ট্যান্ডার্ড ইউনিফর্ম পরে রায়ট গিয়ার, রেইনকোট ও অস্ত্রসহ মাঠে থাকবে। এই যুবকরা ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, ৪৯টি থানা এলাকাকে ৯টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে প্লাটুন গঠন করা হবে। প্রতি প্লাটুনের নেতৃত্বে থাকবে পুলিশ কর্মকর্তা, কিন্তু সদস্যদের বড় অংশ হবে এই বেসরকারি মিলিশিয়া। কন্ট্রোল রুম থেকে ওয়্যারলেস কমান্ড এর মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে পুরা কর্মকান্ড।

  • একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি কমিশনার (এডিসি) কন্ট্রোল রুমে বসে পুলিশ ওয়্যারলেস সিস্টেমের মাধ্যমে মাঠের প্লাটুনগুলোকে নির্দেশ দেবেন।
  • প্রতি ঘণ্টায় রিপোর্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হবে।
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি ডিএমপি কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার ও ক্রাইম-অপারেশনস প্রধানদের কাছে যাবে।
  • আহত ‘পুলিশ’ সদস্যদের জন্য পুলিশ ভ্যান স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

অস্ত্রশস্ত্র ও প্রস্তুতি

নথিতে উল্লেখ আছে, সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাই অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করবে। “অপারেশনাল সাকসেসের জন্য পুরোপুরি সমন্বয় জরুরি”—এই নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের মধ্যে সহযোগিতা বাধ্যতামূলক।

অস্ত্র প্রশিক্ষনের পূর্বের বিডিডাইজেস্ট এর সংবাদঃ ২৫০ জনকে অস্ত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুরু হলো প্যারা মিলিশিয়া বাহিনীর আদলে টাউন ডিফেন্স পার্টি

জুলাইয়ের জঙ্গিদের অস্ত্রীকরণ:

ছাত্র সরকারের নতুন কৌশলসূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে সরকার উৎখাতে যে ছাত্র-জঙ্গিরা রাজপথে ছিল, যারা সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের মোকাবেলায়, তাদেরই একাংশকে ‘যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ’ ও ‘স্বেচ্ছাসেবক ফোর্স’ নামে সংগঠিত করে ৯ হাজার সদস্যের মিলিশিয়া গঠন করা হয়। এর নেতৃত্বে আছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এই ট্রেনিং, বেতনভাতা সবই দেয়া হচ্ছে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আইটি ও ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য যুব উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিয়ে যাওয়া ২৩০০ কোটি টাকা থেকে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে বরাদ্দের টাকা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এর ঘনিষ্ঠ সহচর, যার অনুমতি ছাড়া কোন প্রকল্পে কোন অর্থ বরাদ্দ হয় না।

[এই বিষয়ে বেশ কিছু ডকুমেন্টস ও তথ্য বিডিডাইজেস্ট এর হাতে এসেছে। আরো অধিকতর তদন্ত শেষে যুব অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত টাকার “পুকুরচুরি” নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে বিডিডাইজেস্টে]

গতকাল (৮ নভেম্বর) এই বাহিনীর সদস্যরা “মোবিলাইজেশন ড্রিল” করেছে। তাদের পুলিশের ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র বলছে, এই যুবকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর হামলা চালাতে পারে।

 

আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ ও আইসিটি রায়

১০-১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিক্ষোভকে “হিংসাত্মক” আখ্যা দিয়ে পুলিশ-মিলিশিয়া মিশ্র বাহিনী দিয়ে দমনের পরিকল্পনা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র সরকার জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের অস্ত্রে সজ্জিত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার বানাচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হচ্ছে। একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, “পুলিশের ইউনিফর্মে বেসরকারি মিলিশিয়া মোতায়েন মানে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার লাইসেন্স।”

সরকারের নীরবতাএ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বা ডিএমপি কমিশনারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ নথিতে স্পষ্ট—অপারেশনের সাফল্যই মূল লক্ষ্য, আর সেটা হচ্ছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের রাস্তায় নামতে না দেয়া, আর যতোটা সম্ভব দলের মাঠে নামা নেতাকর্মিদের সশস্ত্রভাবে প্রতিহত করা, যেন তারা আর মাঠে নামার সাহস না পায়।

নর্থইস্ট নিউজ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে সতর্কতা জারি করছে। ১০-১৩ নভেম্বর ঢাকার রাজপথে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এটা কি শান্তি রক্ষা, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নতুন অধ্যায়?

 

Visited 102 times, 1 visit(s) today