খালেদাকে দেখতে হাসপাতালে নেতাদের ঢল: সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা, লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান

খালেদাকে দেখতে হাসপাতালে নেতাদের ঢল: সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা, লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। কিন্তু এই লোক দেখানো কর্মকাণ্ডে সংক্রমণের শঙ্কা বেড়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। নির্বাচনমুখী দলগুলোর নেতাদের বারবার আসা-যাওয়ায় খালেদা জিয়ার ফুসফুসের সংক্রমণ আরও জটিলতর হতে পারে বলে চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, তার স্বাস্থ্যের সামান্য উন্নতি হলেই লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা: সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত ২৩ষে নভেম্বর রাতে ফুসফুসের সংক্রমণের জটিলতায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। তার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও এভারকেয়ারের অধ্যাপক ড. এফএম সিদ্দিকী আজ শনিবার গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দেন।

তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা নিউমোনিয়ায় রূপ নিয়েছে। শনিবার দুপুরে সিসিইউ থেকে অপারেশন থিয়েটার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে আরও পরীক্ষার জন্য। অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর, কিন্তু স্থিতিশীল। দীর্ঘদিনের রোগ যেমন লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, চোখের সমস্যা এবং হৃদরোগও চাপ সৃষ্টি করছে।”

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, “তার দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারণে কোনো বাহ্যিক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক নেতাদের বারবার আসা-যাওয়া এবং সমর্থকদের ভিড় এই ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। আমরা সবাইকে কম আসতে অনুরোধ করছি এবং মাস্ক-স্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশনা দিচ্ছি।

চিকিৎসকরা এসব ‘লোক দেখানো’ কর্মকাণ্ডে হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় বাড়ছে বলে জানান এবং এতে সংক্রমণের শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন এতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “ম্যাডাম আগতদের চিনতে পারছেন, কিন্তু তার অবস্থা ভালো নয়। লন্ডন থেকে তার ছেলে তারেক রহমান এবং স্ত্রী সর্বক্ষণ যোগাযোগ রক্ষা করছেন। জনসনস হপকিন্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি পরামর্শ দিচ্ছেন।”

লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি: শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই ফ্লাইট

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন শনিবার সাংবাদিকদের জানান, ম্যাডামের অবস্থা এখনও খুবই গুরুতর। তবে যদি সামান্য উন্নতি হয় এবং চিকিৎসকরা ফ্লাইটের অনুমতি দেন, তাহলে তাকে দ্রুত লন্ডনে নেওয়া হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে।

বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খান বলেন, “বিদেশি হাসপাতালের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা: সহানুভূতি না সংক্রমণের ঝুঁকি?

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়াতেই নির্বাচনমুখী দলগুলোর নেতারা হাসপাতালে ভিড় বাড়ান।

বিশ্লেষকরা একে ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ‘ভোটারদের মন যোগানোর কৌশল’ বলে দেখছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কতার পর বিএনপি নেতা আব্দুল মোনায়েম সমর্থকদের ‘অপ্রয়োজনীয় ভিড়’ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন দেখা করে তার জন্য দোয়ার আবেদন জানান। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও এসে দেখা করেন। বাংলাদেশ আম জনতা পার্টির সদস্য সচিব তারেক রহমানসহ আরও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে আসা-যাওয়া করছেন নিয়মিত।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসা-যাওয়া করছেন। এছাড়া হাসপাতালের গেটে, বাইরে দেখা করার জন্য তৃণমূলের কর্মীরা অপেক্ষা করছেন। এছাড়া সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল খোঁজখবর নেন খালেদা জিয়ার।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, “খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কোনো অভাব হবে না। সরকার সব সহায়তা দিবে।”

Visited 22 times, 1 visit(s) today