নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই ক্যাম্প থেকে বের হয়ে ফিরে যায়নি। স্বাধীনভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে অস্ত্রসহ সহিংসতায় জড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে তাদের মধ্যে অনেককে আটক করেছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ২২ জন রোহিঙ্গা আটক করা হয়। ছদাহা ইউনিয়নের হাসমতের দোকান থেকে ১০ জন রোহিঙ্গা নির্মাণ শ্রমিক এবং কেঁওচিয়া ইউনিয়নের নয়া খালের মুখ সম্রাট ব্রিকফিল্ড এলাকার ইটভাটা থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, “ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা এবং বিভিন্ন কৌশলে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের সাতকানিয়া থানার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্প ছেড়ে স্বাধীনভাবে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। অস্ত্রসহ সহিংসতায় জড়ানো এবং পরিচয় গোপন করার কারণে এই সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যে কোনো সময় সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, এমন আটক অভিযান নিয়মিত হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গারা এখনও ক্যাম্প ছাড়ার পর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিষয়টি শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, ধারাবাহিক অভিযান ও ক্যাম্পে পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে এই অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হবে। তবে এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, ক্যাম্প ছেড়ে পালানো রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
