শিশির মনিরের প্রস্তাব: বিএনপিকে হটিয়ে জাময়াত-শিবিরকে নিয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কমিটি গঠন

শিশির মনিরের প্রস্তাব: বিএনপিকে হটিয়ে জাময়াত-শিবিরকে নিয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কমিটি গঠন
শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে চলতি বোরো মওসুমে শত কোটি টাকার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে কৃষকদের নেতৃত্বে হাওরের ফসল রক্ষায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে ২০১৮ সাল থেকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সমন্বয়ক ও জামায়াত-শিবির ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে প্রভাব বিস্তার করে কৃষকদের বদলে নিজেরা কাজ বাগিয়ে নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত হয়ে পড়েছে।

গত বছর থেকেই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ও সুনামগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান শিশির মনির হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন। জাতীয়তবাদী আদর্শের নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে প্রশাসনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে শিশির মনির এককভাবে জামায়াত-শিবিরকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছেন।

চলতি মওসুমে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের (বিএনপি বাদে) বাদ দিয়ে শিশির মনির জামায়াত-শিবিরের লোকদেরই কমিটিতে টেনে নিয়েছেন।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সাধারণ শাখার স্মারক নং ০৫.৪৬.৯০০০.০১৫.১২০০২.২৩-২০২ স্মারকে গত ৫ই নভেম্বর হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী খাল পুনখননের জন্য স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা ২০২৩’ জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে বিএনপির গত কমিটির নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

শিশির মনিরের প্রভাবে সংশ্লিষ্টরা কমিটিতে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের সাবেক সভাপতি মহসিন রেজা মানিক, মদন মোহন কলেজ শিবিরের সাবেক নেতা জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজ শিবিরের সাবেক নেতা শহিদনূরকে জেলা কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

শিশির মনিরের নিজ উপজেলা শাল্লায়ও জামায়াত নেতা তারেক আহমদকে উপজেলা কমিটির সদস্যের জন্য সুপারিশ করেছেন শিশির মনির। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্তর্ভূক্তির কথা বলে বিএনপিকে বাদ দিলেও জামায়াতকে কমিটিতে যুক্ত করতে প্রশাসনকে চাপ দেন শিশির মনির। গত বছরও তিনি নিজের লোক শিবির নেতা আমির হোসেনকে শাল্লা উপজেলা কমিটিতে যুক্ত করতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এভাবে কৌশলে বিএনপিকে বাদ দিয়ে শিশির মনির জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ফসলরক্ষা বাঁধের জেলা ও উপজেলা কমিটিতে যুক্ত করেছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম গত বছরই শিশির মনিরকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লিখেছেন। তবে বিএনপির কেউ কমিটিতে না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এবার সম্পূর্ণরূপে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপিকে কমিটি থেকে বাদ দিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি উপজেলায় জামায়াতকে ভিন্ন কৌশরে ভিন্ন ব্যানারে কমিটিতে যুক্ত করেত সহযোগিতা করছেন শিশির মনির। কমিটি ফসলরক্ষা বাঁধের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট। এবারও ভুয়া প্রকল্পে বরাদ্দ হাতিয়ে নিতে নীলনকষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ৫ই আগস্টের পর জামায়াত নেতা শিশির মনিরের আবির্ভাব ঘটেছে এলাকায়। যার পরিবারের সবাই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী। ৫ই আগস্টের আগে তাকে এলাকায় কেউ চিনত না। এখন প্রশাসন যন্ত্রকে প্রভাবিত করছেন তিনি। বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলা ও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কমিটির ক্ষেত্রে তার প্রস্তাব ও নির্দেশনাই মানছে প্রশাসন। এতে বিএনপি বঞ্চিত হচ্ছে। সাবেক ও বর্তমান জামায়াত-শিবির যুক্ত হচ্ছে এসব কাজে। তারা সরকারি অর্থ লুটপাট করছে।

বিএনপির আরেক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে কমিউনিস্ট তথা ছাত্র ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের নিয়ে হাওরের কমিটি হতো। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাদ দেওয়ার কথা বলে এখন জামায়াতকে নিয়ে কমিটি হচ্ছে। জামায়াত-শিবির একাই লুটেপুটে খাচ্ছে সরকারি বরাদ্দ। আর এই সুযোগ করে দিচ্ছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী শিশির মনির।

Visited 27 times, 1 visit(s) today