জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া সদরের হিন্দু পাড়ায় গিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় এবং একইসাথে নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে দ্বীনের পথে আসার ওয়াদা নেওয়ার অভিযোগে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক জামায়াত কর্মীর নাম মো. মোকসেদ আলী। তাকে ছাড়িয়ে নিতে জামায়াত-শিবিরের নেতারা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে ইতিমধ্যে।
তিনি বগুড়া সদরের ফাঁপোর ইউনিয়নের ইসলামপুর হরিগাড়ী উত্তর পাড়ায় বসবাস করেন।
আজ ৬ই ডিসেম্বর, শনিবার দুপুরে স্থানীয় প্রতিবাদী জনতা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে পুলিশ তাকে রক্ষা করে একপাশে সরিয়ে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু জনগণ উত্তেজিত হয়ে গেলে অবস্থা বেগতিক দেখে বগুড়া সদর থানার পুলিশ তাকে আটক দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, কয়েকদিন আগে জামায়াত কর্মী মোকসেদ বেলাইল হিন্দু পাড়ায় গিয়ে বয়স্ক ও বিধবা মহিলাদের সরকারি ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে ছবি ও ভোটার আইডি নিয়ে যায়। অনলাইনের কাজের জন্য নেয় জনপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
টাকা নেওয়ার সময় হিন্দু পাড়ার ভোটারদের জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। হিন্দু হলেও তারা বেহেশতে যেতে পারবেন যদি জামায়াতে ভোট দেন। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের হাত ধরে ওয়াদাও নেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আজ বেলা ১২টার দিকে মোকসেদ তার দলীয় এক মুরুব্বিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় সবাই তাকে ঘিরে ধরলে তিনি ক্ষমা চান টাকা আদায়ের ঘটনায়। এ নিয়ে হৈ চৈ শুরু হলে অনেকেই ঘটনাটি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।
ঘটনা সম্পর্কে বগুড়া সদর থানার ওসি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে থানা-পুলিশ প্রতারণার দায়ে মোকসেদকে আটকের কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই জামায়াত ও শিবিরের নেতারা মোকসেদকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তথ্য মিলেছে।
