নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের ফি বর্তমানের ৪০০ টাকা থেকে একলাফে ৫,০০০ টাকা—অর্থাৎ প্রায় ১৩ গুণ বাড়িয়ে নাগরিকদের পকেটে হাত দেওয়ার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। আগামী রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ইসির ১০ম সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য এজেন্ডায় রাখা হয়েছে।প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী:
- প্রথমবার সংশোধন আবেদন: ৫,০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট = মোট ৫,৭৫০ টাকা
- আপিল/রিভিশন আবেদন: আরও ৫,০০০ টাকা + ভ্যাট
- একই ব্যক্তি যতবার আবেদন করবেন, ততবারই গুণোত্তর হারে ফি বাড়বে
এছাড়া জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় ন্যস্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রতি মাসে গড়ে ৮০ হাজার নাগরিক এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন। বর্তমানে দীর্ঘসূত্রিতা, ভোগান্তি আর দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ থাকলেও নতুন এই ফি কাঠামো চালু হলে সাধারণ মানুষের জন্য তা দুর্মূল্যের সেবায় পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, “বেশি ফি বসালে কথায় কথায় আবেদনের প্রবণতা কমবে, আমাদের কাজের চাপ কমবে।” কিন্তু খোদ নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা গোপনে স্বীকার করেছেন, এতে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং দালালদের পকেট আরও ভারী হবে।
গত কয়েক মাসে পাসপোর্ট ফি, গাড়ির ফিটনেস ফি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংযোগ ফি—সবকিছুই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এবার এনআইডি সংশোধন ফিতেও যোগ হলো সেই তালিকায়।
নিত্যপণ্যের দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন নাগরিকের পরিচয়পত্র ঠিক রাখার খরচটাও এখন পেয়াজের কেজির চেয়েও দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
নাগরিক সমাজের প্রশ্ন: জনগণের ভোটাধিকারের মৌলিক দলিল এনআইডির তথ্য সংশোধন কি এতটাই বিলাসী সেবা যে তার জন্য ৫৭৫০ টাকা গুনতে হবে? নাকি এটা সাধারণ মানুষকে দিয়ে সরকারি কোষাগার ভারী করার আরেকটি উপায়?
রোববারের ইসি সভার সিদ্ধান্তই বলে দেবে—এনআইডি এখন গরিবের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না।
