কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়ছে এক বছরে ১১ হাজার, কিন্তু তিন মাসে জমা কমছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা

কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়ছে এক বছরে ১১ হাজার, কিন্তু তিন মাসে জমা কমছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে নতুন কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭৩৪টি আর একবছরের হিসাবে কোটিপতি একাউন্ট বৃদ্ধির সংখ্যটা ১১ হাজার।

যদিও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন— “অনেকদিন ধরে বাড়িতে লুকিয়ে রাখা টাকা এখন ব্যাংকে জমা দিচ্ছে লোকে”। অর্থাৎ অর্থ উপদেষ্টা বোঝাতে চেয়েছেন উনার আমলে মানুষের ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরছে, তাই এতো এতো বছর ঘরে লুকিয়ে রাখা টাকা ব্যাংকে জমা দিচ্ছে।

কিন্তু কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বাড়লেও, জুন প্রান্তিকের পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সময়ে কোটিপতি একাউন্ট গুলো থেকে জমা টাকা কমছে ৫৯ হাজার কোটি।

অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও সাধারণ নাগরিক—সব মহল থেকেই এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা উঠেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন একটাই: যদি সত্যি সত্যি ঘরে-গোডাউনে লুকিয়ে রাখা কালো টাকা ব্যাংকে আসত, তাহলে কোটিপতি অ্যাকাউন্টগুলোর মোট আমানত ৫৯ হাজার কোটি টাকা কীভাবে কমে গেল?

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “উপদেষ্টা মহোদয় যেন উল্টো হিসাব পড়ছেন। কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও মোট জমার পরিমাণ প্রচণ্ড কমেছে। এটা স্পষ্ট যে, বড় বড় আমানতকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছেন—হয়তো বিদেশে পাচার করছেন, হয়তো বিকল্প বিনিয়োগে নিয়ে যাচ্ছেন। ‘ঘরে লুকানো টাকা ব্যাংকে আসছে’ বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসু বলেন,
“এই বক্তব্য অর্থনীতির বেসিক লজিকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদি নতুন নতুন কালো টাকা ব্যাংকে ঢুকত, তাহলে মোট আমানত বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে আমানত কমছে। এটা বোঝায় ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে, ইউনুস সরকারের আমলে বরং আরও বেড়েছে।”

একজন এক্স (টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন:
“কারা ঘরে টাকা লুকিয়ে রাখতো? যারা গত ১৫ বছর ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে তারাই তো! এখন সেই টাকা আরও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। আর উপদেষ্টা মহোদয় বলছেন ‘লোকে ঘর থেকে টাকা বের করে ব্যাংকে দিচ্ছে’—এর চেয়ে হাস্যকর ব্যাখ্যা আর হয় না।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের সারাংশ:
মার্চ ২০২৫: কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ১,২১,৩৬২টি
জুন ২০২৫: ১,২৭,৩৩৬টি (+৫,৯৭৪টি)
সেপ্টেম্বর ২০২৫: ১,২৮,০৭০টি (+৭৩৪টি)

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বড় আমানতকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছেন—যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটকে আরও প্রকট করেছে।

অর্থ উপদেষ্টার এই বিতর্কিত বক্তব্য শুধু অর্থনৈতিক বোধবুদ্ধির অভাবই প্রকাশ করছে না, বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমান হতাশাকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।

Visited 20 times, 1 visit(s) today