আইএমএফ ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৩% করেছে, তবে পরবর্তী দুই বছরে গতি কমার আশঙ্কা

আইএমএফ ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৩% করেছে, তবে পরবর্তী দুই বছরে গতি কমার আশঙ্কা
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভারতের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশে উন্নীত করেছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক গতি বজায় থাকার কথা উল্লেখ করলেও সংস্থাটি বলেছে, চক্রাকার সহায়ক কারণগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় পরবর্তী দুই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৬.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এই সংশোধন আসে ভারতের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (এনএসও) চলতি মাসের শুরুতে চলতি অর্থবছরের (৩১ মার্চ শেষ) প্রবৃদ্ধির অনুমান বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করার পর। যা সরকারের প্রাথমিক ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।

সোমবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাস বৃদ্ধির পেছনে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল এবং চতুর্থ প্রান্তিকে শক্তিশালী গতি কাজ করেছে।

আইএমএফের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক গত সপ্তাহে এক পৃথক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ভারত বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইএমএফ এর আগে আর্টিকেল ফোর স্টাফ রিপোর্টে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ হিসেবে অনুমান করেছিল।

ক্যালেন্ডার বছর হিসেবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৬.৩ শতাংশ ও ৬.৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে। উচ্চপ্রযুক্তি খাতে গতি কিছুটা কমলেও অন্যান্য খাতের দুর্বলতা আংশিকভাবে পুষিয়ে দেবে।

তবে ঝুঁকি এখনও নিম্নমুখী বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যদিও ২০২৬ ও ২০২৭ সালে এই প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএমএফ ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০২৫ সালের আনুমানিক ৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্বল চাহিদা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে তেলের দাম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমতে পারে।

ভারতে মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে আইএমএফ জানায়, ২০২৫ সালে খাদ্যপণ্যের দামের মন্দার ফলে তীব্র পতনের পর মূল্যস্ফীতি আবার লক্ষ্য মাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসবে। উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নির্ধারিত মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যসীমা ২ থেকে ৬ শতাংশ।

Visited 3 times, 1 visit(s) today