নিজস্ব প্রতিবেদক
জননন্দিত অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে তাকে নানাবিধ মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে। পেয়েছেন হুমকি-ধমকিও। তবুও দমে যাননি, নিয়মিত ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের লোকজন এবং তাদের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করে যাচ্ছেন সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ‘উপদুষ্টু’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষের পাশাপাশি এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার স্ত্রীর শাড়ি পরিহিত একটি ছবি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শাওন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মেট্রো রেলে উদ্বোধনের সময় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার একটি ছবি শাওন শেয়ার করেন নিজের ফেসবুক থেকে।
পোস্টে তিনি লিখেছেন:
‘ছবিটা খুব সুন্দর। লিটনের ফ্ল্যাটের রূপকার, উপদুষ্টু পরিচালক সাহেবের স্ত্রীর শাড়িটাও বেশ! এই ছবি বড় করে বাঁধিয়ে উপদুষ্টু মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে বানানো জুলাই জাদুঘরে রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকে ফেসবুকে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শাওনের অনুসারীরা তার বক্তব্যে সহমত পোষণ করেছেন।
নেটিজেনদের ধারণা, শাওন তার পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দিকে ইঙ্গিত করেই কটাক্ষ করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গার পর উচ্ছৃঙ্খল-উগ্রবাদী লোকজন গণভবনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। জুলাইয়ের দাঙ্গাকারীরা সেসময় গণভবনের সকল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুটপাট করে নিয়ে যায়। এরপর পরিত্যক্ত ভবনটিকে ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা ফারুকীর তত্ত্বাবধানে জুলাই জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় একটি আলোচিত স্থান ছিল লিটনের ফ্ল্যাট। সেখানে একান্তে প্রেমিক-প্রেমিকারা অবৈধ প্রণয়ে লিপ্ত হতে যেত। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজে অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগে ফারুকীকে নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
অনেক বছর পর আবারও সিনেমার ওই বিতর্কিত বিষয়টি মনে করিয়ে নির্মাতাকে উপদুষ্টু অ্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী শাওন।

