ইউনুস সরকারের ‘বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ’ এর গপ্পো থেকে ‘বিনিয়োগের বিনিময়ে প্রণোদনা”র বাস্তবতা 

ইউনুস সরকারের ‘বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ’ এর গপ্পো থেকে ‘বিনিয়োগের বিনিময়ে প্রণোদনা”র বাস্তবতা 
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬: ২০২৫ সালের এপ্রিলে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫-এ বিশ্বের ৪২টি দেশ থেকে ৪০০-এর বেশি বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা বারবার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। সামিটে ২৬০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩,১০০ কোটি টাকা) প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল, যার মধ্যে চীনা কোম্পানি হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ১৫০ মিলিয়ন ডলারের এমওইউ অন্যতম। সরকারের খরচ ছিল মাত্র ১.৫ কোটি টাকা, যা ‘সফলতা’ হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশিরভাগই এখনো কাগজে-কলমে আটকে আছে, বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই।

মাত্র কয়েক মাস পর, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ)-এর গভর্নিং বোর্ডের সভায় (যা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস নিজে সভাপতিত্ব করেন) একটি নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি হলো: প্রবাসী বাংলাদেশিরা (এনআরবি) যদি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে সাহায্য করেন, তাহলে তারা বিনিয়োগের পরিমাণের ১.২৫% নগদ প্রণোদনা পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো প্রবাসী ১০০ মিলিয়ন ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার তাকে ১.২৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা) নগদ প্রণোদনা দেবে। এই প্রণোদনা রেমিট্যান্সের জন্য দেওয়া প্রণোদনার মতোই কাঠামোতে হবে।

এই ঘোষণা পূর্বের বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত সকল আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিকে ‘ফাঁকাবুলি’ ও ‘আই ওয়াশ’ হিসেবে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ:

সামিটে বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে এফডিআই প্রবাহ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ১.৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে (যার বেশিরভাগ রি-ইনভেস্টেড আয় ও ইন্ট্রা-কোম্পানি লোন থেকে)। এখন প্রবাসীদের ‘কমিশন’ দিয়ে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে।

সামিটের পর থেকে বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। বিদেশি ঋণ বাড়ছে, রাজস্ব ঘাটতি রয়ে গেছে, এবং বাস্তব বিনিয়োগকারীরা এখনো অপেক্ষায়। এই পরিস্থিতিতে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা অনেকের কাছে ‘ভিক্ষার ঝুলি খোলা’র মতো মনে হচ্ছে।

এক্স (টুইটার)-এ অনেকে এটাকে ‘ভিখারি ইউনুস’-এর নীতি বলে কটাক্ষ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিনিয়োগ আনলে প্রণোদনা—এখন পাকিস্তানি থালা-বাটি বিনিয়োগ করলেও প্রণোদনা চাইব!”

বিআইডিএ চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, এই প্রণোদনার লক্ষ্য প্রবাসীদের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটা আসলে সরকারের অক্ষমতা ঢাকার চেষ্টা। বড় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে না পারলে প্রবাসীদের কমিশন দিয়ে কতদূর যাওয়া যাবে?

ইউনুস সরকারের এই নীতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আদৌ কি বাস্তব বিনিয়োগ আসছে, নাকি শুধু আশ্বাস আর প্রণোদনার খেলা চলছে? জনগণ এখন অপেক্ষায় আছে, কবে এই ‘বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন’ বাস্তবে রূপ নেবে।

 

Visited 13 times, 1 visit(s) today