সমর্থকদের ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে বললেন সাবেক ফিফা সভাপতি

সমর্থকদের ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে বললেন সাবেক ফিফা সভাপতি
শেয়ার করুন

ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসতে আর মাস কয়েক বাকি। কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। খোদ ফিফার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার সমর্থকদের পরামর্শ দিলেন, নিরাপত্তার অভাবের কারণে এই বছর তাঁদের আমেরিকা যাওয়া উচিত নয়। সোমবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকায় বিশ্বকাপ বয়কট করার যে ডাক উঠেছে, তার সঙ্গে তিনি একমত।

দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী মার্ক পিথ এক সময় ফিফার সংস্কারের কাজে ব্ল্যাটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি পিথ সমর্থকদের আর্জি জানান, তাঁরা যেন বিশ্বকাপের জন্য আমেরিকায় না যান। সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন ব্ল্যাটারও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় মার্ক পিথ এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে একদম ঠিক কাজ করেছেন।’

কিন্তু কেন এই অনীহা? মার্ক পিথ মূলত আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন দপ্তরের কর্মীর হাতে রিনি গুড নামক এক প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়। গত সপ্তাহান্তেও অ্যালেক্স প্রেত্তি নামে আর এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই সব ঘটনাকে হাতিয়ার করেই পিথের দাবি, আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নয়।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে যুগ্মভাবে বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ার কথা। কিন্তু পিথের আশঙ্কা, ‘সে দেশে এখন রাজনৈতিক বিরোধীদের কোণঠাসা করা হচ্ছে, অভিবাসন দপ্তর চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে সমর্থকদের সেখানে যাওয়ার উৎসাহ পাওয়ার কথা নয়।’ সমর্থকদের প্রতি তাঁর সরাসরি পরামর্শ, ‘আমেরিকা এড়িয়ে চলুন! তার চেয়ে বরং টেলিভিশনেই খেলা অনেক ভালো দেখা যাবে।’ এমনকি সতর্ক করে তিনি এও বলেছেন যে, বিমানবন্দরে নামার পর প্রশাসনের সঙ্গে সামান্য এদিক-ওদিক হলে সমর্থকদের তৎক্ষণাৎ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।

২০১৫ সালে ফিফার অন্দরমহলে দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ব্ল্যাটার। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। যদিও গত বছরই ২০ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ তছরুপের মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ব্ল্যাটার ও প্রাক্তন উয়েফা প্রধান মিশেল প্লাতিনি। তবে মাঠের বাইরের লড়াই থামছে না। বর্তমান ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো এবং আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও সরব হয়েছেন প্লাতিনি। তাঁর মতে, ইনফান্তিনো এখন অনেক বেশি ‘স্বৈরাচারী’ হয়ে উঠেছেন এবং তিনি কেবল ধনী ও ক্ষমতাশালীদেরই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়ার মুখে খোদ প্রাক্তন প্রধানের এমন মন্তব্য বিশ্ব ফুটবলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, মাঠের লড়াই শুরুর আগে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়। যেমনটা আমরা ইদানীং ক্রিকেটে মোস্তাফিজুর রহমান-এর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ দেখি, তেমনই ফুটবল বিশ্বের নজর এখন এই প্রশাসনিক চাপানউতোরের দিকে।

Visited 1 times, 1 visit(s) today