নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়ানো একটি দাবি ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে যে জেফ্রি এপস্টেইনের সহকারীর সঙ্গে কোনো “গোপন বিষয়ে একমত হয়েছেন” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রিউমার স্ক্যানারের ফ্যাক্ট-চেকে দেখা গেছে, যেই লেখাটিকে ভিত্তি করে এই দাবি তৈরি করা হয়েছে, সেটি জেফ্রি এপস্টেইনের সহকারীর নয় বরং নরওয়ের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্গে ব্রেন্ড।
লিখিত নোটে কেবল উল্লেখ ছিল যে, শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি পূর্বনির্ধারিত কূটনৈতিক বৈঠক থাকায় নির্ধারিত নৈশভোজের সময় পরিবর্তন করতে হয়েছিল। লেখাটিতে কোনো গোপন আলোচনা, সমঝোতা বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এপস্টেইন ফাইলের লেখাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে এই লেখা ছিল ডিপ্লোম্যাটিক শিডিউল ম্যানেজমেন্টের একটি সাধারণ নোট, যেখানে বৈঠক বা শিডিউল পরিবর্তনের তথ্য সরলভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে, যে কোনো রাজনৈতিক বা গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত এই লেখায় নেই। বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে স্পষ্টভাবে ভুয়া দাবি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নাম ১৩ বার এসেছে। নথিতে ইউনূসকে এপস্টেইন তার ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক লবিং, সাফল্য এবং প্রমোশন স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত।
বিপরীতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম একবারও নেই। কেবল একটি জায়গায় এসেছে “PM of Bangladesh” শব্দবন্ধ—কোনো নাম ছাড়াই।
তারপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কিছু রাজনৈতিক মহলে একটি ইমেইলকে কেন্দ্র করে “শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন বৈঠক” দাবি তৈরি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি ফ্যাক্ট-চেক করলে দেখা যায়, সেটি ভিত্তিহীন।
২০১৮ সালের জাতিসংঘ সফর: টাইমলাইন এবং বাস্তবতা
শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বিদেশ যান। সরকারি ও আন্তর্জাতিক নথি অনুযায়ী তার সফরসূচি ছিল:
২১শে সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ ত্যাগ, ২২ সেপ্টেম্বর: লন্ডনে অবস্থান ও ২৪ সেপ্টেম্বর: নিউইয়র্কে পৌঁছান।
এটাই স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে, ২১শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো বৈঠক হওয়া সম্ভব ছিল না।
বিতর্কিত ইমেইল এবং তার বাস্তব প্রেক্ষাপট
Epstein Files–এ আলোচিত ইমেইলটি পাঠান Lesley Groff, জেফ্রি এপস্টেইনের সহকারী। ইমেইলটি পাঠানো হয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রাত ১টা। এর অংশবিশেষ:
“Wow. Really appreciate, sorry about this but it is a bilat my team had agreed with PM of Bangladesh.”
ইমেইলে শেখ হাসিনার নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। কেবল পদবি “PM of Bangladesh” উল্লেখ আছে। আর কোনো বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার ফলো-আপ নেই, যা থাকতেই হতো।
ইমেইলে যে ঠিকানা উল্লেখ আছে—9 East 71st Street, Upper East Side, Manhattan—সেখানে শেখ হাসিনা ওই সময়ে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাচ্ছিলেন।
ফলে, এই ইমেইলকে কেন্দ্র করে “গোপন বৈঠক” দাবি করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ইউনূসের নামের প্রসঙ্গ
ড. ইউনূসের নাম ১৩ বার এসেছে নথিতে। সেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কুখ্যাত যৌন ব্যবসায়ী ও Epstein-ঘনিষ্ঠ সার্কেল কীভাবে তাকে বিভিন্ন জায়গায় প্রমোট করেছে। তার সাফল্যে তারা উল্লসিত ছিল—যা লিখিতভাবে নথিভুক্ত।
Epstein Files–এ বাংলাদেশের আরও দু’জন পরিচিত ব্যক্তির নাম এসেছে বলে দাবি করা হয়:
আলোকচিত্রী শহীদুল আলম (দুইবার) ও ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম এসেছে এপস্টেইনের বন্ধুকে দেওয়া তার অনুদানের জন্যে।
