ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে ১৪টি প্রতিমা ও স্বর্ণালঙ্কার-দানবাক্স চুরি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে ১৪টি প্রতিমা ও স্বর্ণালঙ্কার-দানবাক্স চুরি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় শ্রীশ্রী পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে সংঘটিত হয়েছে চুরির ঘটনা। এ সময় মন্দির থেকে ১৪টি প্রতিমা, দুটি দানবাক্সসহ বিভিন্ন পূজাসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

২৬শে জানুয়ারি, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে অবস্থিত মন্দিরটিতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম মো. আমিনুল ইসলামও মন্দির পরিদর্শন করেন। তারা উভয়েই এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে চোরেরা মন্দিরের পাঁচটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ১৪টি প্রতিমা নিয়ে যায়। রাত চারটার দিকে মন্দিরের পূজারি আদি শিষ্য ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল আরতি করতে গিয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি তিনি মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাসকে জানান। খবর পেয়ে সকালেই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

মন্দির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া ১৪টি প্রতিমার মধ্যে ৬টি পিতলের এবং ৮টি পাথরের তৈরি। এ ছাড়া একটি রুপার পাদুকা, বাঁশি, কাঁসার বাসন ও কলস, হারমোনিয়াম, বালতি, পিতলের আসন ও গ্লাস, দুটি দানবাক্সে থাকা নগদ টাকা এবং এক পূজারির ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।

মন্দিরের পূজারি লিপি রানী গোপ বলেন, “আমাদের অপরাধ কী? বারবার আমাদের ওপরই কেন এ ধরনের নির্যাতন হচ্ছে? আমরা নিজেদের আর নিরাপদ মনে করছি না। যদি নিরাপত্তা থাকত, তাহলে আমাদের মন্দিরে এভাবে চুরি-ডাকাতি হতো না।”

শিল্পা রানী মালাকার বলেন, “আমি গতকাল মাধবপুরে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার কক্ষের তালা ভাঙা। নগদ ২০ হাজার টাকা ও হাত, গলা ও কানের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। আমার স্বামী-সন্তান কেউ নেই, আমি প্রভুর সেবায় নিয়োজিত।”

মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাস বলেন, “গত রাতে আমার মন্দিরের প্রতিমা, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং বিশুদ্ধ পানির মোটর চুরি করে নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন জানান, রাত দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে তালা ভেঙে চোরেরা মন্দিরের দুটি দানবাক্সসহ প্রতিমা নিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি স্থানীয় কোনো ছিঁচকে চোরের কাজ এবং মূল লক্ষ্য ছিল দানবাক্স। মন্দির এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে একটি মাত্র সচল। ওই ক্যামেরার ফুটেজে একজন চোরকে দেখা গেলেও গায়ে কম্বল বা কাপড় মোড়ানো থাকায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ জানান, চুরি হওয়া প্রতিমার মধ্যে ৬টি পিতলের ও ৮টি পাথরের। গ্রিল কেটে গায়ে চাদর জড়িয়ে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে এসব সামগ্রী চুরি করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশের একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে।

Visited 5 times, 1 visit(s) today