❐ বিশেষ প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ধর্ষণ এবং বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, “ধর্ষণ তো হয় একজন অসৎ পুরুষ ও নারী বিবাহ বহির্ভূত পন্থায় একে অপরের সাথে মিলিত হলে, সেটাকে ধর্ষণ বলে।” একই সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ধর্ষণ হয় কীভাবে?”
এই সংজ্ঞা অনুসারে সমালোচকরা জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হককে ‘ধর্ষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
২০২১ সালের ৩রা এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে হেফাজতে ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল হক এক নারীর সাথে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় জনতা তাকে ঘেরাও করেন এবং ঘটনাটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে ধর্ষণ মামলায় রূপ নেয়।
মামুনুল হক দাবি করেন ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী, কিন্তু ঘটনাটি ব্যাপকভাবে বিবাহবহির্ভূত বলে প্রচারিত হয়েছে।
জামায়াত নেতা শফিকুর রহমানের সংজ্ঞায় এটি ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য হয়, অথচ জামায়াত জোট তাকে মনোনয়ন দিয়েছে—যা নৈতিক অসঙ্গতি বলে সমালোচকরা মনে করছেন। এছাড়া বৈবাহিক ধর্ষণ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমানের অবস্থান নারীর সম্মতির অধিকারকে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আধুনিক বিশ্বে এবং বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের প্রেক্ষাপটে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু জামায়াত আমির এটিকে অস্বীকার করে বলেছেন যে বিবাহিত সম্পর্কে এমন কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না।
সমালোচকরা বলছেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি পিতৃতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী, যা নারীর শারীরিক স্বায়ত্তশাসন ও সম্মানকে অবজ্ঞা করে।
জামায়াতে ইসলামীর এই অবস্থান নারীর ন্যূনতম অধিকার, সম্মতি এবং সম্মানের প্রতি অবহেলা প্রকাশ করে বলে মতামত দিয়েছেন অনেকে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—যে দল নারীর অধিকারকে এভাবে অজ্ঞতা বা অবজ্ঞা করে, তারা কীভাবে নারী ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে পারে? এটি দ্বিচারিতা এবং নারীর সামগ্রিক অগ্রগতি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
এই বক্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নারী অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
