মতামত || এপস্টেইন ফাইলসে আছে ব্র্যাক-এর নামও!

মতামত || এপস্টেইন ফাইলসে আছে ব্র্যাক-এর নামও!
শেয়ার করুন

রেদওয়ান ইবনে সাইফুল


বাংলাদেশের এনজিও ব্র্যাকের নাম এপস্টেইনের ফাইলে দশবারের উপর এসেছে। তবে যেসব কারণে ব্র্যাকের এসেছে সেগুলো আপনি খালি চোখে ধরতে পারবেন না, আপনাকে ঘাঁটাঘাটি করতে হবে।

প্রথম ছবিতে দেখুন এপস্টেইন ব্র্যাকের নামে প্রশংসা করে বিল গেটসকে মেইল পাঠায়, পাঠানোর সময়কাল ২৬/০৮/২০১৩

আরেকটি মেইলে (১১ জুন ২০১১ সালে) IRRC প্রজেক্ট নিয়ে এপস্টেইনকে অজ্ঞাত কেউ ব্রিফ দেয় যার সাথে ব্র্যাক কানেক্টেড ছিল। মেইলে এও বলা আছে ঢাকার মেয়র এবং অন্যান্য পার্টনাররা প্রজেক্টের ডাটা ব্যবহার করতে পারবে! প্রেরক এপস্টেইনকে এটাও জানাচ্ছে পুরো প্রজেক্টের ডেটা একমাত্র এপস্টেইনই জানে, বাকিরা শুধু দেশভিত্তিক ডাটা পাচ্ছে। অর্থাৎ এপস্টেইনের সাথে মেইলের আদান প্রদানকারীর সাথে ঢাকার মেয়রের সখ্যতা ছিল।

আলোচিত এই ইমেইলটির প্রেরক ছিলেন উইলিয়াম কার্টিস, যিনি জেফরি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক সহযোগী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ইমেইলের মাধ্যমে মূলত IRRC নামক একটি অত্যন্ত গোপনীয় আন্তর্জাতিক তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি প্রকল্পের তথ্য উঠে আসে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করে একটি বিশাল কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা, যার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ণ এক্সেস ছিল একমাত্র এপস্টেইনের হাতে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে এপস্টেইন বিশ্বজুড়ে তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব বিস্তার করতেন।

এখন মেইলটি যখন পাঠানোর সময় ঢাকার মেয়র ছিল কে জানেন? বিএনপির সাদেক হোসেন খোকা। অর্থাৎ এপস্টেইনের এজেন্টের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে সাদেক হোসেন খোকাও বাদ যাননি।

এছাড়া আরেকটি মেইলে (পাঠানোর সময়ঃ ০২/০৪/২০১১ ) এপস্টেইন ব্র্যাকের তিন ডলারের চশমা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করে কাউকে (সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজনীতিবিদ) মেইল দেন, এত প্রজেক্ট থেকে গরীবরা উপকৃত হচ্ছে সেটিও বলা আছে।

অর্থাৎ ব্র্যাকের সাথে জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, না হয় একবার বিল গেটসের সাথে আরেকবার গুরুত্বপূর্ণ কাউকে ব্র্যাকের নাম মেনশন করে এতগুলো মেইল দেওয়ার কথা না।

ব্র্যকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের এপস্টেইনের সাথে সম্পর্ক ছিল কিনা তা জানা যায়নি।

এবার আসি ব্র্যাকের গুরু জর্জ সরোসের ব্যপারে, এপস্টেইন ফাইলসে জর্জ সারোসের নাম ৪৫৮ বার এসেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর ওপেন সিক্রেট উইং সরোস ফাউন্ডেশন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান পায় ২০২০ সালে ব্র্যাক। যেখানেই শর্ত ছিল ওপেন সোসাইটির,ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনের , ডাইভার্সিটির কথা বলে বাংলাদেশে সমকামী এবং ট্রান্স জেন্ডারদের প্রমোট করা।

ব্র্যাককে এক বিলিয়ন ডলার এই এপস্টেইন জর্জ সরোস সিন্ডিকেটই দেয়। এছাড়া এপস্টেইনের একাধিক ফাইলে বলা আছে জেন্ডার চেঞ্জ করা কিংবা ট্রান্সজেন্ডারদের প্রমোট করার জন্য পুশ করতে বিলিয়ন ডলার ডোনেট করার কথা বলা আছে যুক্তরাস্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। দুই তিন বছরের বাচ্চাদের জেন্ডার সমন্ধে নতুন আইডিয়া পুশ করা হচ্ছিল বিভিন্ন দেশে এসব প্রজেক্টের নাম দিয়ে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে এই শয়তানি বন্ধ করে দেয়।

বাইডেনের প্রশাসনের চাপে বাংলাদেশের আদমশুমারিতে বাংলাদেশ সরকার থার্ড জেন্ডার অপশন যুক্ত করতে বাধ্য হয়। এটিকে ডিপ স্টেট তাদের সাফল্য হিসেবে বিচার করতো।

মনে আছে? বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডাররা ২.৭ মিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং পায় ডিপ স্টেট থেকে জুলাই দাঙ্গার দুই বছর আগে। এই ২.৭ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সজেন্ডার ড্যান্স ফেসটিভাল নিয়ে আসলেও, এই অর্থ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। জুলাইয়ের দাঙ্গায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ভূমিকা মনে পড়ে? সবকিছুই কানেক্টেড!

এই যে এই আলাপ এখানে কেন আনছি? সেটা একটু ভাবুন, ছোটবেলা থেকেই বিল গেটসদের নামে Depopulation এর Conspiracy Theory শুনতাম, হাসতাম বিশ্বাসই করতাম না। ভাবতাম বিল গেটসদের মতো মহান লোক হয়ই না। অথচ এপস্টেইনের ফাইলে দেখা যাচ্ছে বিল গেটস মহামারি নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছেন।

রাশিয়ান যৌনকর্মীদের সাথে STD বাধিয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালা Philanthropist বিল গেটস। গত কালকে মেলিণ্ডার অসহায় স্বীকারোক্তি দেখেছি NPR এর পডকাস্টে It’s “unbelievable sadness”, and that “whatever questions remain” needed to be answered by those named in the records, including her ex-husband. বুঝেছেন একজন মহিলা কতটা অসহায় এসব দানবদের কাছে, কি হয়েছে সেটাও বলতে পারেনা।

আই কান্ট বিলিভ স্টিল নাও, বিল গেটসরা কত বড় শয়তান! এই বিল গেটসদের সাথে জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, এই এপস্টেইনদের সাথে সম্পর্ক ব্র্যাক কিংবা ইউনূসদের! এরা সবাই মিলে সারাবিশ্বে সমকামিতার প্রচার এবং জেন্ডার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, যাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে, Depopulation এর Conspiracy Theory দেখি বাস্তব গ্রাউন্ড আছে।

ব্র্যাককে এপস্টেইনের দূতিয়ালি বিল গেটসের কাছে করা কিংবা সরোসের ব্র্যাকে ১ বিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং কিংবা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের উপর ব্র্যাকের এনজিওর মাধ্যমে নজরদারি করাসহ, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে LGBTQ কিংবা Transgender দের প্রমোট করা এগুলো প্রত্যকেটি ঘটনা একটির সাথে আরেকটি কানেকটেড।

এছাড়া দেশের চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ICDDRB এর নামও এপস্টেইন ফাইলে। এছাড়া এপস্টেইনের আইল্যান্ডে কাজ করে এমন কয়েকজন বাংলাদেশি স্টাফে্র কথা এসেছে এপস্টেইন ফাইলসে এই স্টাফরা এপস্টেইনের আইল্যান্ডে ব্র্যাক হয়ে না সরাসরি ইউনূসের হাত ধরে গিয়েছে সেটাই প্রশ্ন!

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলন সপৃক্ততা ও অর্থায়ন নিয়ে পূর্বের রিপোর্টঃ

ইউএসএআইডি ও সরোস ফাউন্ডেশনের বিপুল অর্থায়ন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে

এপস্টেইন গত দুই দশকে আমেরিকা কিংবা ওয়েস্টের যে বিশ্বব্যবস্থার অন্যতম কি প্লেয়ার, তার আইল্যান্ড ছিল দুনিয়ার সবচেয়ে পাওয়ার হাউজ… দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শয়তানদের নামও সেখানে, সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে ইউনূস, ব্র্যাক কিংবা মাইমুল আহসান খানদের মতো অমানুষদের নাম পাওয়া ঠুনকো কোন ঘটনা নয়। এসব এনজিও, এবং গুপ্তচর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সকল ডাটা আমেরিকার হাতে অনেক আগেই পাচার করে দিয়েছে, এখন দেশ বিক্রি করছে।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কিংবা হালের দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে একদিকে যেমন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে প্রচ্ছন্নভাবে, পশ্চিমা ন্যারেটিভ এখনো পুশ করে যাচ্ছে এই মিডিয়াগুলো। তেমনি স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং এনইডির মিডিয়া নেত্র নিউজ এবং বাংলা আউটলুক তো গুপ্তচরবৃত্তি করছেই অনুসন্ধানী সাংবিকতার নাম দিয়ে।

অর্থাৎ পশ্চিমারা বাংলাদেশে সরকারের বিকল্প একটি ইকোসিস্টেম দাঁড় করিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, মিডিয়াসহ সকল সেক্টরে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক এদের কথার বাইরে দেশ চালাতে পারবে না…

যাই হোক এপস্টেইনের ফাইলগুলো সারা বিশ্বে পশ্চিমাদের দানবীয় মুখোশ যেমন খুলে দিয়েছে, সেই সাথে ডলারের জন্য যারা দেশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়েছে সেসব দালালদের নাম বের হচ্ছে। গণশত্রুদের জনগণ চিনে রাখছি।

Visited 19 times, 1 visit(s) today