যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক স্বীকার করেছেন যে তিনি ২০১২ সালে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে গিয়েছিলেন। এই স্বীকারোক্তি তার আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে বহু আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
মঙ্গলবার কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে লাটনিক জানান, পারিবারিক ভ্রমণের সময় একটি নৌযানে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা হয় এবং সেখান থেকে তারা তার দ্বীপে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা মধ্যাহ্নভোজ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরে তার স্ত্রী, চার সন্তান এবং তাদের দেখাশোনাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এই তথ্যগুলো সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ সালে লাটনিক ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত এপস্টেইনের দ্বীপে যান। উল্লেখ্য, এর চার বছর আগেই এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌন সেবা নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
লাটনিকের এই বক্তব্য প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও লাটনিকের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
এর আগে লাটনিক কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে ২০০৫ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, যখন এপস্টেইন তার বাড়িতে একটি ম্যাসাজ টেবিল রাখার কারণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু নতুন সাক্ষ্যে তিনি বলেন, পরবর্তী ১৪ বছরে এপস্টেইনের সঙ্গে তিনি আরও দু’বার সাক্ষাৎ করেছিলেন, যার একটি ছিল দ্বীপ সফর।
লাটনিকের বিরুদ্ধে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি দাবি করেন, তার ও এপস্টেইনের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না এবং বিচার বিভাগের প্রকাশিত লক্ষাধিক নথির মধ্যে মাত্র প্রায় দশটি ইমেইলে তার নাম রয়েছে।
মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন লাটনিকের বক্তব্যের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সমস্যা লাটনিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ নয়, বরং কংগ্রেস ও জনগণের কাছে সম্পর্কের মাত্রা ভুলভাবে উপস্থাপন করা।
এদিকে, এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্যাপিটল হিলে সমবেত হয়ে ‘ভার্জিনিয়ার আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রস্তাবের ঘোষণা দেন। এই আইনের লক্ষ্য হলো যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের দেওয়ানি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সময়সীমা তুলে দেওয়া। আইনটি নামকরণ করা হয়েছে এপস্টেইনের অন্যতম পরিচিত ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া গিউফরের নামে, যিনি ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করেন।
