জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে বোমা বিস্ফোরণে দুইজন নিহতের ঘটনায় জড়িতরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকার কালাম আলীর বাড়িতে এ ঘটনার পরে পরিদর্শনে এসে হারুনুর রশিদ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা কর্মীর বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। তারই উদ্দেশে এখানে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। বিস্ফারিত হয়ে দুইজনের মরদেহ এখানে পড়ে আছে আর কয়েকজন হাসপাতালে আছে। যারা যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় তীব্র বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন ২, আহত ৩: জঙ্গি বা জামায়াত-শিবির ধারণা
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার উদ্দেশে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। বিস্ফোরণে টিনের চালা উড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে দুইটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মুখপত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়িতে বোমা তৈরির ঘটনায় রামেক হাসপাতালে ৮ নং এবং ২ নং ওয়ার্ডে ৩ জন আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইতোমধ্যে ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। বিস্ফোরণের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের মতে, কোনো জঙ্গি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আবারও। কারো মতে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই বোমাগুলো তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।
একজন মুদি দোকানি বলেন, বিস্ফোরণ ঘরের ভেতরে হয়েছে এবং এতে ঘরের টিন অনেক উঁচুতে উড়ে গেছে, তাতেই বোঝা যায় এটা বোমা তৈরির সময় ঘটেছে।
তিনি জানান, বাড়িটির মালিক কালামের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তার ভাই দুলাল এবার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করেছে। মিছিল মিটিংয়ে সরব ছিলেন। বাড়িটি নিরিবিলি স্থানে হওয়ায় বোমা তৈরির জন্য নিরাপদ মনে করেছিল হয়ত।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আর্জি জানান।
বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হারুনর রশীদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ভোটের দিন রাতে জামায়াতের মিছিল থেকে বিএনপির নাসির মেম্বারসহ কয়েজনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পুলিশের উদ্যোগে ঘটনার মীমাংসা হলেও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির জন্য বোমা বানানো হচ্ছিল। এসব ঘটনায় জামায়তের লোকজন জড়িত।
ঘটনায় যে–ই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিএনপি নেতা হারুনর রশীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হারুনের মতো দায়িত্বশীল মানুষের এমন বক্তব্য আশা করি না। তিনি এমনটা না বললেই পারতেন। জামায়াতের লোকজনকে দায়ী করা ঠিক নয়। ধানের শীষের লোকজনের ওপর দাঁড়িপাল্লার লোকজন হামলা করেছে, এটাও ঠিক নয়।’
তবে লতিফুর রহমানের এমন মন্তব্যের সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ধানের শীষের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছেন দাঁড়িপাল্লার লোকজন।
