রমজানের শুরুতেই ইফতার ও সেহরিপণ্যসহ নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

রমজানের শুরুতেই ইফতার ও সেহরিপণ্যসহ নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই ইফতার ও সেহরির প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বাড়তি দামের পক্ষে দেখানো হচ্ছে একের পর এক অজুহাত। খুচরা বিক্রেতারা দোষ দিচ্ছেন পাইকারদের, পাইকাররা বলছেন আমদানিকারকদের কারণে দাম বাড়ছে। কেউ নির্বাচন-পরবর্তী সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন, কেউ আবার পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা তুলছেন। তবে এসব যুক্তির ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

রাজধানীর ফকিরাপুল, গোপীবাগ, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা মোড়, যাত্রাবাড়ি, মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, মহাখালী কাঁচাবাজার ও জোয়ারসাহারা সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

রমজানকে ঘিরে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, খেজুর, মুরগি, মাংস ও ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহেই কিছু পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সংযমের মাসে বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি সীমিত আয়ের মানুষের জীবনে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির পেছনে নানা কারণ দেখালেও ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান এলেই একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেয়। তাদের মতে, বাজার তদারকি জোরদার না হলে এই প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, মহাখালী কাঁচাবাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে দামের কিছু পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব জায়গাতেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ইফতারে চাহিদা বাড়ায় লেবুর দামও চড়া। সাইজভেদে প্রতি হালি লেবু ১০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা।

মোহাম্মদপুর টাউন হলের সবজি বিক্রেতা সুলতান সোলেমান বলেন, আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দৈনিক বাংলা মোড়ে সবজি বিক্রেতা তারেক রহমান বলেন, সব কিছুর দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনেছি। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

দেশি পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫৩ থেকে ৫৬ টাকায় উঠেছে; খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ডালের বাজারেও চাপ রয়েছে। ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দানার মসুর ডাল কেজি ১৬০ টাকা, মোটা দানার ১০০ টাকা এবং মাঝারি দানার ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মুরগি ও মাংসের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার ২০০ থেকে ২১০ টাকা। খাসির মাংস কেজি এক হাজার ৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, খামার পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরায়ও প্রভাব পড়েছে।

শুল্ক কমানোর ঘোষণার পরও খেজুরের বাজারে স্বস্তি নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও খুচরা বাজারে বিভিন্ন জাতের খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর খেজুরের দাম মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে এবং খুচরা পর্যায়েই বেশি বাড়ানো হচ্ছে।

 

রাজধানীর বাড্ডা ও কুড়িল জোয়ারসাহারা বাজারে দেখা গেছে, বরই কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

খেজুরের বাজারে দামের কোনো নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা নেই। যেমন- সুক্কারি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মেডজুল ১,৪০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, মেডজুল জাম্বু ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকা, আজওয়া ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা, ছোট সাইজের আজওয়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং মরিয়ম ১,১০০ থেকে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছড়া খেজুর ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

দেশি ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কলার দাম ডজনপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। পেয়ারা কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের আনারস প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ফলের দাম আগে থেকেই বেশি ছিল; রমজানকে কেন্দ্র করে তা আরও বেড়েছে।

Visited 14 times, 1 visit(s) today