❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাসসুম হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গুমের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত আবু তাহেরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল, তারপর তার লাশ সেপটিক ট্যাংকে গুম করা হয় বস্তায় ভরে।
আজ ২৭শে ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য জানায়।
ঝিনাইদহে নিখোঁজের একদিন পর সেপ্টিক ট্যাংক থেকে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী আবু তাহেরকে শনাক্তের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কুষ্টিয়া পুলিশের সহযোগিতায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার রায়গ্রাম এলাকার চিত্রা নদীর পাড় এবং পার্শ্ববর্তী পানবরজ থেকে শিশুটির স্যান্ডেল উদ্ধার হয়। এ ছাড়া নদী থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় তার পরিধেয় লুঙ্গিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে ৪ বছরের শিশু তাবাসসুমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রাতেই নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, ২৪ ঘণ্টার আগেই ক্লুলেস মামলাটির প্রকৃত আসামি আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আলামত হিসেবে খুনির ব্যবহৃত লুঙ্গি ও শিশুর স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ আফজাল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবু তাহের শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে।
নিহত শিশুর পিতার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। শুক্রবার জুমার পর উপজেলার বারোবাজার এলাকায় শত শত মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

