টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে নিজেদের দাপট ধরে রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। শুক্রবার কলম্বোয় সেমি ফাইনালের আগে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে তারা। এই জয়ে টানা তিন জয় নিয়ে সেমিতে নামবে তারা। অন্যদিকে হারের মুখ দেখা নিউজিল্যান্ডের শেষ চারে যাওয়া এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তাদের হারে সুযোগ তৈরি হলো পাকিস্তানের। শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তান যদি বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তবে তারা উঠে যাবে সেমিতে।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে এক পর্যায়ে বিপাকে পড়েছিল ইংল্যান্ড। দলীয় ৫৮ রানেই টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। তবে মিডল ও লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় ৩ বল হাতে থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জস বাটলারের দল।
স্পিনারদের জয়জয়কার এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। কলম্বোর উইকেটে এদিন রাজত্ব করেছেন স্পিনাররা। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ১৬ ওভারই করেছেন ইংলিশ স্পিনাররা, যা টি-টোয়েন্টিতে তাদের নতুন রেকর্ড। কিউইদের ইনিংস থেমেছে ১৫৯ রানে ৭ উইকেটে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন গ্লেন ফিলিপস। এছাড়া ওপেনার টিম সাইফার্ট ৩৫ ও ফিন অ্যালেন করেন ২৯ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সফল ছিলেন উইল জ্যাকস (২/২৪) ও অভিজ্ঞ আদিল রশিদ (২/২৮)। অভিষেক ম্যাচেই বাজিমাত করেছেন তরুণ লেগ-স্পিনার রেহান আহমেদ; নিজের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। লিয়াম ডসনও নিয়েছেন ১টি উইকেট।
উত্তেজনার শেষ মুহূর্ত রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুসনের তোপে পড়ে ইংল্যান্ড। মাত্র ২ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ফিল সল্ট ও অধিনায়ক জস বাটলার। হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেলের ব্যাটে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও গ্লেন ফিলিপসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আবারও চাপে পড়ে ইংলিশরা।
তবে শেষ দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন উইল জ্যাকস। ১৮ বলে অপরাজিত ৩২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে গ্লেন ফিলিপসকে আক্রমণ করে ২২ রান তুলে নিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন রেহান আহমেদ; মাত্র ৭ বলে ১৯ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন এই তরুণ।
অপেক্ষায় নিউজিল্যান্ড এই হারের ফলে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল ভাগ্য এখন নিজেদের হাতে নেই। শনিবার পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’রা শেষ চারে জায়গা পাবে কি না। পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে যেতে হলে আগে ব্যাট করলে শ্রীলঙ্কাকে কমপক্ষে ৬৪ রানের ব্যবধানে হারাতে হবে, আর রান তাড়া করলে জিততে হবে ৪৭ বল আগে।
