ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ (যিনি আজিজ নাসিরজাদেহ নামেও পরিচিত) এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের এই দুই শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন।
এই হামলা আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় চালানো হয়েছে।
উইকিপিডিয়া এবং অন্যান্য সূত্রেও নাসিরজাদেহের মৃত্যুর তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এয়ারস্ট্রাইকের কারণে ঘটেছে। তিনি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং একজন অভিজ্ঞ যুদ্ধবিমান চালক ছিলেন।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনও এই মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকার করা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন যে, তার দেশ “এক বা দুজন কমান্ডার হারাতে পারে, কিন্তু প্রায় সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জীবিত এবং নিরাপদ”। তবে ইসরায়েলি সূত্রগুলোতে এই হত্যাকাণ্ডকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ইরান ইতিমধ্যে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে গালফ অঞ্চলের একাধিক দেশে বিস্ফোরণের খবর এসেছে। তেহরানের বাসিন্দাদের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার জন্য টেক্সট মেসেজ পাঠানো হয়েছে, এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সংঘাত নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা চালাচ্ছে, কিন্তু ইরানের সামরিক নেতৃত্বে এই বড় ধরনের আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্র অনুসরণ করুন।
