জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতে ধাক্কা, উৎপাদন কমেছে ২০ শতাংশ

জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতে ধাক্কা, উৎপাদন কমেছে ২০ শতাংশ
শেয়ার করুন

❐ বিশেষ প্রতিবেদক


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে শিল্পকারখানাগুলো তীব্র সংকটে পড়েছে। তেল ঘাটতির কারণে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিঘ্ন।

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের মজুত দ্রুত কমে আসায় শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় সব ট্রাক পরিচালনা করা যাচ্ছে না, ফলে সরবরাহ চেইনে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জেনারেটর চালাতেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন কমেছে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।

প্রাণ গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “প্রতি মাসে যে পরিমাণ তেল ব্যবহার করা হতো, সেই অনুযায়ী বরাদ্দ দিলে সমস্যা থাকবে না। কিন্তু পরিকল্পনাহীন রেশনিং করলে শিল্পখাত ও সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এদিকে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতেও সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিজিএমইএ ইতোমধ্যে তেলের চাহিদা নিরূপণে তালিকা তৈরি করছে। সংগঠনটির জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রপ্তানিতে বড় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংকট মোকাবিলা না করলে বাজারব্যবস্থা ও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি রেশনিং চালু করে শিল্প ও সেবা খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সিপিডি-এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “বর্তমান ও সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারযোগ্য করতে হলে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে ১৭টি জাহাজে ডিজেল আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র ১০টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে।

Visited 12 times, 1 visit(s) today