নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৭ এপ্রিল: রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি থেকে সরকার সরে এলে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আবারও হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, সিজন ও চেয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের মেন্টালিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে। সরকারকে স্ট্রাকচারাল জায়গায় এক হতে হবে। এটি থেকে সরে আসলে চব্বিশ আবারও হবে। কোনো না কোনোভাবে হয়তো সে প্রস্তুতি হচ্ছে। বাট চব্বিশ হবে। মেজরিটি দিয়ে আটকানোর সুযোগ নেই।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আবারও হুমকির মুখে মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, যারা চব্বিশে রাস্তায় নেমেছিল তারা কাউকে এমপি-উপদেষ্টা বানানোর জন্য রাস্তায় নামেনি। তারা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছিল।
তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে আবারও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করছেন।
বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সংস্কার থেকে সরে গেলে ছাত্র-জনতাকে আবার রাস্তায় নামিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করার পরিকল্পনা চলছে।
এনসিপি নেতার এমন হুঁশিয়ারিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বর্তমান সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে চাইছেন হাসনাত আবদুল্লাহরা। তবে তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল, তা বাস্তবায়নের প্রশ্ন। অথচ ২৪ হয়েছিল কোটা বিলোপের দাবীতে, চাকরীর সুযোগের দাবীতে, বৈষম্য নাশের দাবীতে।
আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর ক্রমাগত হুমকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চব্বিশের চেতনা থেকে সরে গেলে জনগণ আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে এবং কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তা আটকাতে পারবে না।
এদিকে, তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অনেকে মনে করেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনকে বারবার রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।
এনসিপির এই মুখ্য সংগঠকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে অনড় এবং প্রয়োজনে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিতে প্রস্তুত। তবে এটি কতটা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হবে, নাকি রাজনৈতিক দলগুলোর পরিকল্পিত কর্মসূচি— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া কতটা গতিশীল এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল— এ নিয়ে বিতর্ক চলমান। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
