নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬: দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও বুধবার (১৫ এপ্রিল) বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বার কাউন্সিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে নির্বাচনী প্রচারণা ও অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন বার সমিতির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ আসনের ৭টি এবং আঞ্চলিক আসনের ৭টি পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
তবে এই স্থগিতাদেশকে অনেকে ‘বিতর্কিত’ বলে অভিহিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনসহ অন্যান্য বারে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন ফর্ম তুলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র অনুসারে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বার প্রেসিডেন্টের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অনেকে অগণতান্ত্রিক ও নজিরবিহীন বলে মনে করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থিত প্রার্থীদের বাইরে অন্য কাউকে মনোনয়ন ফর্ম তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সমর্থক আইনজীবীদের ফর্ম সংগ্রহে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা।
ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অপপ্রচার চালানো এবং রাজনৈতিক প্যানেলের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া একপেশে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইনজীবী মহলে আলোচনা চলছে যে, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করে আসলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের একচেটিয়া জয়লাভ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনেকে মনে করেন, স্বতন্ত্র ও বৈচিত্র্যময় প্রার্থিতা নিশ্চিত না করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
বার কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক আইনজীবী দাবি করেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে, যাতে সকল যোগ্য প্রার্থী অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
নির্বাচন স্থগিতের নতুন তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আইনজীবী সমাজের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
