‘বেহেশতের টিকিট’ বিতর্কে গণধোলাই খেলেন সরকারি চাকরিজীবী জামায়াত নেতা

‘বেহেশতের টিকিট’ বিতর্কে গণধোলাই খেলেন সরকারি চাকরিজীবী জামায়াত নেতা
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জিল্লুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের কালিনজিরা ব্রিজের ওপরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও প্রকাশ্যে দলীয় রাজনীতি করা এবং হামলার ঘটনার শুরুতে জিল্লুর রহমান নিজে এক কর্মীকে চড় মারার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এদিকে এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনা-৩ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে থানা ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত জিল্লুর রহমান উপজেলার দাসমরিচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ওই গ্রামের নজির উদ্দিনের ছেলে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ না থাকলেও জিল্লুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মীর সঙ্গে শিক্ষক ও জামায়াত নেতা জিল্লুর রহমানের ‘বেহেস্তের টিকিট’ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তর্কের একপর্যায়ে শিক্ষক জিল্লুর রহমান নিজেই উত্তেজিত হয়ে এক কর্মীকে চড় (থাপ্পড়) মারেন। সরকারি শিক্ষকের এমন আচরণে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার জেরে রাতে বাড়ি ফেরার সময় কালিনজিরা ব্রিজের ওপরে একদল যুবক তাঁর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাঁর অবস্থা মুমূর্ষু হওয়ায় রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগারসহ জামায়াতের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী ভাঙ্গুড়া থানা ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সংসদ সদস্য আছগার এবং জামায়াত নেতা হাফিজ উদ্দিন বাহার থানা চত্বরে বক্তব্য দেন এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বেঁধে দেন। এই সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Visited 23 times, 1 visit(s) today