❐ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে অনুমতি ছাড়া ছাত্রীদের ‘উদ্দেশ্যমূলক’ ছবি তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতা। পরবর্তীতে তার গাড়ি তল্লাশি করে কয়েক ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়। মধ্যরাতের এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
২রা জুলাই, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম পরিচিত খাবারের স্থান ‘বটতলা’ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম দেবাশীষ চৌধুরী (৪৫), যিনি ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার আমন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার রাতে বটতলায় খাবার খেতে এসেছিলেন দেবাশীষ চৌধুরী। খাবার খাওয়ার একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্রী সন্দেহ করেন যে, দেবাশীষ তাদের অনুমতি না নিয়ে গোপনে ছবি তুলছেন।
ছাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে তার মোবাইল ফোনের গ্যালারি দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে ঘটনাস্থলে জাকসু নেতা, ছাত্রদল নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা জড়ো হন।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে তিনি গ্যালারি দেখাতে বাধ্য হন এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হেঁটে যাওয়ার একাধিক ছবি পাওয়া যায়। একই সাথে তার ফোনে বটতলার খাবারের ছবিও দেখা যায়।
এদিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি তল্লাশি করলে সেখান থেকে দুই ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এরপরই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ছবি তোলার বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করেন দেবাশীষ চৌধুরী। তিনি জানান,”আমি ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছিলাম। তাই স্বভাববশত কিছু র্যান্ডম ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে আমার এক বোনকে পাঠিয়েছি। এখানে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”
অন্যদিকে গাড়িতে মাদক (বিয়ার) পাওয়ার প্রসঙ্গে এই যুবদল নেতা দাবি করেন, তার কাছে মদ্যপানের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, তাই তিনি এগুলো গাড়িতে সাথে রেখেছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক নিরাপত্তা শাখায় আসেন এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সার্বিক বিষয়ে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেন,”বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এবং দুজন ছাত্রীর ছবি তুলেছিলেন। বিষয়টি ছাত্রীদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তার ফোনেও এর প্রমাণ মেলে। নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসার পর তিনি নিঃশর্তভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি ও তার গাড়ি কখনো জাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ায় ভিডিও স্বীকারোক্তি ও মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
